Dhaka Mail Logo

জাতীয়

প্রতিষ্ঠানে প্লাস্টিকের বেঞ্চ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩১ এএম

সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দফতরে কাঠের আসবাবপত্রের পরিবর্তে প্লাস্টিকের বেঞ্চ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন দেশীয় ফার্নিচার শিল্পের উদ্যোক্তারা। 

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে সরকারি ক্রয়ে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং দেশীয় ফার্নিচার শিল্পের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেওয়া স্মারকলিপিতে উদ্যোক্তারা বলেন, কাঠের বেঞ্চের পরিবর্তে প্লাস্টিকের বেঞ্চ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে এর অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও কারিগরি প্রভাব মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। কারণ, এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে শুধু আসবাবপত্রের উপকরণ পরিবর্তনের বিষয় জড়িত নয়, এর প্রভাব পড়তে পারে দেশীয় উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ফার্নিচার শিল্প একটি উৎপাদনমুখী ও শ্রমনির্ভর খাত। শিল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। বড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ছাড়াও জেলা, উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কাঠমিস্ত্রি, কারিগর, শ্রমিক, পরিবেশক ও সরবরাহকারীরা এ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাঠের বেঞ্চের পরিবর্তে শ্রেণিভিত্তিক নমুনা অনুসারে দৃষ্টিনন্দন প্লাস্টিকের বেঞ্চ সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগকে।

উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্লাস্টিকের আসবাবপত্রের জন্য বড় ও দীর্ঘমেয়াদি বাজার তৈরি হবে। এতে কাঠ ও বোর্ডভিত্তিক আসবাবপত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারে। পাশাপাশি এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তারা মনে করেন, সরকারি নীতিনির্ধারণে কোনো নির্দিষ্ট উপকরণ বা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত নয়। বরং জাতীয় অর্থনীতি, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার, পরিবেশ সংরক্ষণ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

কাঠ ও প্লাস্টিকের বেঞ্চের তুলনামূলক মূল্যায়নের দাবি

স্মারকলিপিতে প্রধানমন্ত্রী সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তের ১৫ নম্বর ক্রমিকের নির্দেশনা বাস্তবায়নের আগে কাঠ ও প্লাস্টিকের বেঞ্চের স্থায়িত্ব, ব্যবহারযোগ্যতা, নিরাপত্তা, পরিবেশগত প্রভাব, মেরামতযোগ্যতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ব্যয়ের তুলনামূলক মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়েছে।

উদ্যোক্তারা বলছেন, কোনো একটি উপকরণকে এককভাবে প্রাধান্য না দিয়ে গুণগত মান, স্থায়িত্ব, ব্যবহার উপযোগিতা, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ও পরিবেশগত বিষয় বিবেচনা করে আসবাবপত্র কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এতে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সরকারি ক্রয়ে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার আহ্বান

স্মারকলিপিতে সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে দরপত্র প্রক্রিয়ায় সব যোগ্য উৎপাদনকারী ও সরবরাহকারীর সমান অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এমন কোনো শর্ত বা নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়, যাতে নির্দিষ্ট কোনো উপকরণ বা উৎপাদনকারী গোষ্ঠী একচেটিয়া সুবিধা পায় বলে মনে করেন উদ্যোক্তারা।

তাদের দাবি, কাঠ, বোর্ড ও প্লাস্টিক সব ধরনের আসবাবপত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারি ক্রয়ে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সুযোগ রাখতে হবে। এতে দেশীয় শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সুরক্ষিত থাকবে।

সিদ্ধান্তটি চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা, উৎপাদনকারী, কারিগরি বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য অংশীজনের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে দেশীয় ফার্নিচার শিল্পের সক্ষমতা ও স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দপ্তরের আসবাবপত্র ক্রয়ের নীতিমালা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।

এএইচ/এআরএম