নিজস্ব প্রতিবেদক
০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২০ পিএম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার ও বিস্তারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রযুক্তির ব্যবহার হতে হবে মানুষের কল্যাণে। মানুষ যেন প্রযুক্তির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে না পড়ে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। বিশেষ করে এআইয়ের অগ্রগতির ফলে দেশের বেকারত্বের সংকট যাতে আরও প্রকট হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্ব এখন দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগামী দশকে বাংলাদেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প, বাণিজ্য, কর্মসংস্থানসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে এ প্রযুক্তির ব্যাপক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান নির্ধারণেও এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেই বিবেচনায় এ সম্মেলন শুধু আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের দিকনির্দেশনা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম শক্তি হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শিল্পের আধুনিকায়ন, রফতানি সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং তরুণদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে এই প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে।
তবে এআইয়ের সম্ভাবনার পাশাপাশি এর ঝুঁকির দিকগুলোও বিবেচনায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতির মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেন কোনোভাবেই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এজন্য নিরাপদ ব্যবহার, যথাযথ তদারকি এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় মানবসভ্যতা বড় ধরনের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, নতুন জ্ঞান ও বিজ্ঞানের অগ্রগতিকে কত দ্রুত গ্রহণ এবং কাজে লাগানো যায়, তার ওপর একটি দেশের উন্নতি অনেকাংশে নির্ভর করে। বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নতুন জ্ঞানের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। একসময় বিদ্যুৎ যেমন সভ্যতার গতিপথ পরিবর্তন করেছিল, তেমনি এআইও বিশ্বব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে।
বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তরুণরা প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত এবং নতুন স্বপ্ন বাস্তবায়নে সক্ষম। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে তারাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে এ বিপ্লবের সুফল পেতে হলে তরুণদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতায় দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দেশের তৈরি পোশাকশিল্প যেভাবে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পরিচিতি তৈরি করেছে, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক শিল্পও তেমন নতুন পরিচিতি এনে দিতে পারে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, এআই নীতিমালায় নৈতিকতা, মানবাধিকার, ঝুঁকিভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ এবং দায়িত্বশীল উদ্ভাবনের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা ভাষাভিত্তিক নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়টিও নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী কয়েক বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্ব অর্থনীতিতে বিপুল অর্থনৈতিক মূল্য সংযোজন করবে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে শুধু এআই প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং উদ্ভাবন ও প্রয়োগের ক্ষেত্রেও সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
ব্যবসায়ী সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এআইকে শুধু ব্যয় কমানোর উপায় হিসেবে দেখা উচিত নয়। নতুন পণ্য ও সেবা উদ্ভাবন, বাজার সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরিতেও এ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তরুণ প্রজন্ম সমন্বিতভাবে কাজ করলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ২০৪১ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য অর্জনেও বাংলাদেশ আরও একধাপ এগিয়ে যেতে পারবে।
এম/এফএ