জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১২ পিএম
মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যাবে এবং সারাদেশের জন্য অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা ১১টায় মোংলা বন্দরের ৯ নম্বর জেটিতে আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মোংলা বন্দরের মর্ডানাইজেশন প্রকল্পের আওতায় আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল, ইয়ার্ড এবং কার্গো হ্যান্ডলিং সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। মোংলা বন্দর আধুনিকায়নের কাজ সঠিক সময়ে সম্পন্ন হলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র পাল্টে যাবে। শুধু এই অঞ্চলই নয়, সারাদেশের জন্যই অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দ্বারও উন্মোচিত হবে।
‘আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, প্রকল্পের সাফল্য শুধু নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং বন্দরসেবার মান কতটা উন্নত হলো, পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় কতটা হ্রাস পেল, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কতটা বৃদ্ধি পেল, এবং পরিবেশ কতটা সুরক্ষিত থাকল, তার ওপরই যেকোনো প্রকল্পে সত্যিকার সাফল্য নির্ভর করবে। পরিবেশবান্ধব বন্দর সেবা, ড্রেজিং পলি ব্যবস্থাপনা, তেল নিঃসরণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জাহাজের নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এক্ষেত্রে ‘আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা মানদণ্ড’ অনুসরণ, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিপজ্জনক কার্গো ব্যবস্থাপনায় অগ্নিনিরাপত্তা, প্রশিক্ষিত জনবল ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা গড়ে তোলাও জরুরি।’
তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, রফতানি বহুমুখীকরণ, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পোশাক শিল্পের পাশাপাশি ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় শিল্পখাতে দেশি-বিদেশি নিরাপদ এবং সবার জন্য লাভজনক বিনিয়োগের পরিবেশ সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে।’
দেশে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষে বিনিয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক অংশীজন, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ, সহজ সেবা প্রক্রিয়া, নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো এবং নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মোংলা বন্দরের আধুনিকীকরণ বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর পরিকল্পনারই একটি ধাপ। সুতরাং বন্দরের নাব্যতা, নৌ-চ্যানেলে নির্ভরযোগ্যতা, জাহাজের নিরাপদ চলাচল এবং প্রতিযোগিতামূলক বন্দরসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছে মংলা বন্দরকে আকর্ষণীয় করে তুলে ধরে উপযুক্ত বাণিজ্যিক ও পরিচালনগত শর্তে ফার্স্ট কলিং পোর্ট হিসেবে রুপান্তর করা এখন সময়ের দাবি।
‘মোংলা বন্দর দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল এবং উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের জন্য একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক হাব। এ বন্দরকে কেন্দ্র করে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোরসহ এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ করতে হবে। পঞ্চগড় থেকে মোংলা পর্যন্ত চার লেনের সমন্বিত সড়ক যোগাযোগ, বন্দরের সাপ্লাই চেইন ও পণ্য পরিবহন সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে হবে। খানজাহান আলী বিমানবন্দরের উন্নয়ন এবং কার্যকর ব্যবহার সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। মোংলা বন্দর, মোংলা ইপিজেড, চীনা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং দেশের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে সমন্বিত যোগাযোগ ও সরবরাহব্যবস্থা আরো সহজ এবং সুগম করা দরকার।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা, সরবরাহ চেইন কার্যকর রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোংলা বন্দর জ্বালানি, সার, খাদ্যশস্য শিল্পের কাঁচামাল আমদানি এবং দেশীয় পণ্য রফতানিতে দেশের একটি পরিপূরক বন্দর হিসেবে জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। আজকের এই উদ্যোগ দেশের শিল্প, বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে আস্থা এবং আঞ্চলিক সুষম উন্নয়নে টেকসই আর্থ-সামাজিক মূল্য সংযোজন করবে।
বিইউ/এমআর