Dhaka Mail Logo

জাতীয়

এমআরটি লাইন-১ এর চার প্যাকেজের নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষর

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০৩ পিএম

রাজধানীর প্রথম পাতাল মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-১ নির্মাণে আরও এক ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। প্রকল্পটির চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজের নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল ভবনের সম্মেলনকক্ষে ডিএমটিসিএলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং জাইকা বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো। স্বাগত বক্তব্য দেন ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, রাজধানীর যানজট কমানো, যাতায়াতের সময় সাশ্রয় এবং নাগরিকদের আধুনিক গণপরিবহন সেবা দেওয়াকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগর পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-১ চালু হলে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জাপান সরকার ও জাইকার সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

চারটি প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষরকে প্রকল্প বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উল্লেখ করে সচিব চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে নির্মাণকাজে দেশের প্রচলিত আইন ও শ্রম আইন অনুসরণ, কর্মীদের নিরাপত্তা এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, নির্মাণকাজের কারণে সাধারণ মানুষের সাময়িক ভোগান্তি তৈরি হবে। তাই কাজ দীর্ঘায়িত না করে সময়মতো শেষ করতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা এবং প্রকল্প এলাকার আশপাশে বসবাসকারী মানুষের কল্যাণকে গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্বচ্ছতা, কার্যকর যোগাযোগ এবং সমন্বয় বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং উন্নয়ন সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন। মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রমে স্থবিরতা কাটিয়ে পুনরায় কাজ শুরু ও গতি ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। দুই দেশের অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাপান সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

চার প্যাকেজে হবে যেসব কাজ

চুক্তি অনুযায়ী, কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-০৪ এর আওতায় রামপুরা আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে নতুন বাজার স্টেশন পর্যন্ত ৪ দশমিক ৪৪৭ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ রেলপথ ও স্টেশন নির্মাণ করা হবে।

সিপি-০৬ প্যাকেজের আওতায় নদ্দা আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণ করা হবে।

সিপি-০৯ প্যাকেজে ট্র্যাক ও ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম স্থাপনের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রেললাইন, টার্নআউট, পয়েন্ট ও ক্রসিংসহ প্রয়োজনীয় ট্র্যাক অবকাঠামো এবং বৈদ্যুতিক সুবিধা স্থাপন করা হবে।

অন্যদিকে, সিপি-১০ প্যাকেজের আওতায় সিগন্যালিং, টেলিযোগাযোগ, প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর এবং এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ইআরএমএস) স্থাপন করা হবে। এ প্যাকেজে কমিউনিকেশন বেজড অটোমেটিক ট্রেন কন্ট্রোলিং সিস্টেম, অপটিক্যাল ফাইবারভিত্তিক ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক এবং এলটিই প্রযুক্তির রেডিও যোগাযোগব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চারটি প্যাকেজের কাজ বাস্তবায়িত হলে এমআরটি লাইন-১ এর অবকাঠামো নির্মাণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে। এর মাধ্যমে ঢাকার ক্রমবর্ধমান যাতায়াত চাহিদা পূরণ, সড়কের ওপর যানবাহনের চাপ কমানো এবং নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ আরও সুগম হবে।

অনুষ্ঠানে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং চুক্তি স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


এম/এফএ