নিজস্ব প্রতিবেদক
০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম
ডিসেম্বরের মধ্যেই তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত করতে চায় নিম্নতম মজুরি বোর্ড। এ লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে বোর্ডের দ্বিতীয় সভায় নিজেদের দাবি ও প্রস্তাব লিখিত আকারে জমা দেবেন শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা। সবকিছু ঠিক থাকলে নতুন কাঠামো অনুযায়ী আগামী জানুয়ারি থেকেই বর্ধিত বেতন পাবেন শ্রমিকরা। আজ বোর্ডের প্রথম সভায় এ সময়সীমার বিষয়ে একমত হয়েছেন উভয়পক্ষের প্রতিনিধিরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ড কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আজাদ সুবহানী এবং শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা।
বেলা ১১টায় শুরু হওয়া সভায় নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানসহ বোর্ডের ছয় সদস্য অংশ নেন। বৈঠকে পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন, মজুরি বৃদ্ধির দাবি এবং দ্রুত নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভা শেষে বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আজাদ সুবহানী জানান, আগামী সপ্তাহেই বোর্ডের দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা নিজেদের দাবি ও প্রস্তাব লিখিত আকারে জমা দেবেন। সেসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত করা হবে।
তিনি বলেন, আগের মতো মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা করা হবে না। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা ও শিল্পের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে।
মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি বাবুল আখতার জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের বিষয়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষ একমত হয়েছেন। সে অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে শ্রমিকরা নতুন কাঠামোয় বেতন পাবেন।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে সরকার ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে। এ অবস্থায় আন্দোলন অব্যাহত না রেখে শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়া উচিত। উৎপাদন সচল রাখা এবং শিল্পের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা সবার দায়িত্ব।
শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বোর্ডের কর্মপরিকল্পনা ও কার্যপদ্ধতি শ্রমিকদের স্বার্থের পক্ষেই রয়েছে। মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরাও সভায় শ্রমিকদের বিষয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কথা বলেছেন। তাই শ্রমিকদের বোর্ডের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এ বি এম শামসুদ্দিনও ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই বলেও জানান তিনি।
এদিকে, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন করছেন পোশাক শ্রমিকরা। মজুরি বোর্ড গঠনের পরও বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটছে। চলমান আন্দোলনের কারণে বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রথম সভায় নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়ে ঐকমত্য হলেও ন্যূনতম মজুরির পরিমাণ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী সভায় উভয়পক্ষের লিখিত প্রস্তাব পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
বোর্ডের প্রতিনিধিরা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত করা সম্ভব হলে শ্রমিকদের অসন্তোষ কমবে এবং পোশাকশিল্পে স্বাভাবিক উৎপাদন পরিবেশ ফিরে আসবে।
এমআর/এসআই