মোস্তফা ইমরুল কায়েস
০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম
রাজধানীর তুরাগ নদে সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ঘটনার রাতে কেন সাউরি এক তরুণীকে নিয়ে নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে গিয়েছিলেন, সেখান থেকে বন্ধুসুলভ ছোট ভাই হিসেবে পরিচিত দ্বীপকে সঙ্গে নিয়ে কেন টঙ্গীর মাজার বস্তিতে গিয়েছিলেন, তা জানার চেষ্টা চলছে। বস্তি থেকে বেরিয়ে তাঁরা কোথায় গিয়েছিলেন, সে বিষয়েও দ্বীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এ ছাড়া ঘটনার রাতে গ্রেফতার হওয়া তরুণী দিশার সঙ্গে সাউরির কী কথা হয়েছিল, তাঁরা কেন রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন, সেখান থেকে বেরিয়ে দিশা কোথায় গিয়েছিলেন এবং এরপর সাউরির সঙ্গে তাঁর আর যোগাযোগ হয়েছিল কি না, এসব বিষয়েও জানার চেষ্টা চলছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সাউরি একাধিকবার নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে দীপও ছিলেন। ঘটনার রাতেও দীপের পাশাপাশি আরও এক তরুণী তাঁদের সঙ্গে ছিলেন।
রেস্টুরেন্টটির জেনারেল ম্যানেজার হাসান হাবিবের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে তাঁরা গান শুনেছেন, নাচানাচি করেছেন এবং আনন্দঘন সময় কাটিয়েছেন।
দিশাকে নিয়ে বারে কেন গিয়েছিলেন সাউরি
তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ঘটনার রাতে সাউরি গ্রেপ্তার হওয়া জারিকা তাসনিম দিশাকে নিয়ে নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে যান। সেখানে তাঁরা প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থান করেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ ও আরও এক তরুণী।
তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, পুরো সময় সাউরির মন খারাপ ছিল। তিনি মদ পান করেন। বার কর্তৃপক্ষকে স্যাড মিউজিক বাজানোর অনুরোধও জানান। তবে সেদিন তাঁর মন খারাপ থাকার কারণ কী, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানিয়েছেন, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৮ মিনিটের দিকে তাঁরা ওই বারে প্রবেশ করেন। সেখানে সাউরি দিশাকে প্রশ্ন করেন, কয়েক দিন আগে তিনি কেন এক যুবকের সঙ্গে ইয়াবা সেবন করতে গিয়েছিলেন এবং কেন তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। এসব প্রশ্নে দিশা ক্ষুব্ধ হন। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে ঝগড়া হয়।
দ্বীপের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে সাউরি বলেন, তুমি তো ইয়াবা খেয়েছ, আমি এর চেয়ে বড় কিছু খাব। আমি হেরোইন খাব।
বার থেকে বেরিয়ে বস্তিতে কেন গেলেন সাউরি ও দীপ
নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার থেকে বেরিয়ে সাউরি ও দীপ টঙ্গীর মাজার বস্তিতে যান। তাঁরা সেখানে কেন গিয়েছিলেন, কার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন, দীপের ভাষ্যমতে তাঁদের কেন পুলিশ ধাওয়া করেছিল এবং ধাওয়া খেয়ে তাঁরা কোথায় গিয়েছিলেন, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৮ মিনিটের দিকে তাঁরা বারে প্রবেশ করেন। পরে রাত ১২টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে সাউরি ও দীপ বার থেকে বের হন। এরপর মোটরসাইকেলে করে টঙ্গীর মাজার বস্তিতে যান। সিসিটিভি ফুটেজেও তাঁদের সেখানে যাওয়ার বিষয়টি দেখা গেছে। তাঁরা তিনটি মোটরসাইকেলে একসঙ্গে বস্তিতে প্রবেশ করেন।
সেখানে সাউরি চিৎকার-চেঁচামেচি করলে একপর্যায়ে কয়েকজন মাদক কারবারি সেখানে আসেন। কিছুক্ষণ পর কয়েকজন তাঁদের ধাওয়া করেন। তখন সবাই পালিয়ে যান।
এরপরের ঘটনা সম্পর্কে দীপের দাবি, একপর্যায়ে সাউরি তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। আর তিনি একটি পিলারের পাশে লুকিয়ে থাকেন। পরে টহলরত পুলিশ সদস্যদের কাছে নিজের পরিচয় দিলে তাঁরা তাঁকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। বেশ কিছুক্ষণ পর মূল সড়ক খুঁজে পেয়ে একাই মোহাম্মদপুরের বাসায় ফিরে যান দীপ।
সাউরিকে সেখানে ফেলে কেন তিনি একা বাসায় ফিরে গেলেন, তা-ও জানার চেষ্টা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এমআইকে/এআর