নিজস্ব প্রতিবেদক
০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
আগামী ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘কীসের ডিসেম্বর ডিসেম্বর করছেন?’
মন্ত্রী জানান, পলাতক শেখ হাসিনা ও তার যেসব পলাতক সহযোগী বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী দেশের কাছে আবেদন করেছে সরকার।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে গার্মেন্টস মালিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে তার টানা সাড়ে ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। তখন থেকেই ভারতে অবস্থান করছেন তিনি।
পরে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমনের চেষ্টার সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন ৭৯ বছর বয়সী হাসিনা। তিনি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত পলাতক আসামি। দেশে তার দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।
হাসিনার দেশ ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা, তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, দলীয় সংসদ সদস্য এবং তৃণমূলের অনেক নেতা-কর্মী আত্মগোপনে চলে যান। পরে তাদের অনেকের ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবস্থানের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ পায়। দেশে থাকা অনেক নেতাকর্মী গ্রেফতার হন।
গত বছরের মে মাসে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। এখন দলটির রাজনৈতিক তৎপরতা মূলত অনলাইনে সীমিত। এর বাইরে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু ঝটিকা মিছিল করে দলটির নেতাকর্মীরা।
ভারতে অবস্থান করা শেখ হাসিনা মাঝেমধ্যে বিবৃতি দেন ও সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেন। গত জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দেন তিনি। নির্বাসনে থাকা দলের নেতাদেরও তার সঙ্গে দেশে ফেরার আহ্বান জানান ক্ষমতাচ্যুত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
সচিবালয়ে সাংবাদিকের করা ডিসেম্বর সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আপনারা কীসের ডিসেম্বর ডিসেম্বর করছেন। আমরা যে পলাতক, খুনি, গণহত্যাকারী, ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের যারা সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছে যারা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছে, তাদের সবাইকে ফেরত পেতে এক্সট্রাডিশন ট্রিটি অনুসারে পার্শ্ববর্তী দেশের কাছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবেদন জানিয়েছি। সেই জায়গায় ডিসেম্বর কেন?
‘আজকেই যদি তারা প্রত্যাবর্তিত হয়, এক্সট্রাডিটেড হয়, আমরা তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব। কোর্টের রায় অনুসারে আমরা সেটার ব্যবস্থা নেব। এখানে ডিসেম্বর ডিসেম্বর বলে একটা হাইপ তোলার চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে তাদের পলাতক নেতাকর্মীদের একটা বুস্টআপ করার চেষ্টা করছে। সেটা কখনো সাকসেসফুল হবে না।’
এ সংক্রান্ত আরেক প্রশ্নের জবাবে কিছুটা ক্ষোভের স্বরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আবার ডিসেম্বর। কীসের ডিসেম্বর। ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। বিজয়ের মাস উপলক্ষে ডিসেম্বরে আমাদের সমস্ত কর্মসূচি থাকবে। কোনো পলাতক আসামি যদি ডিসেম্বর-জানুয়ারি এ সমস্ত বলতে থাকে সেটা তাকে জিজ্ঞাসা করেন।
‘আমরা চাই ফ্যাসিবাদী যেকোনো দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ফ্যাসিবাদী-পতিত, মাফিয়া শক্তি যারা যেখানেই থাকুক, যেখানেই আশ্রয় নিক, তারা যেন অতি শিগগিরই প্রত্যাবর্তন করেন। তাদেরকে আমরা আইনের আওতায় নেব। তারাও যেন সুবিচার পায় সেটা আমরা নিশ্চিত করব।’
পোশাক কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলনের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘গার্মেন্টস খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি কিংবা রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য কেউ ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সীমান্তের ওপার থেকে ইশারায় কেউ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে। যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের এসব থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘গার্মেন্টস খাতে সম্ভাব্য অস্থিরতা সম্পর্কে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। গত মাসের ১৮ তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে শ্রম মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও জানানো হয়েছিল।’
এর আগে সকালে গার্মেন্টস খাতের চলমান পরিস্থিতি, সংকটের কারণ এবং তা নিরসনে করণীয় নিয়ে গার্মেন্টস মালিক নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন।
এমআর