নিজস্ব প্রতিবেদক
০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:২২ পিএম
বিসিএস ২৯তম ব্যাচের চাকরিজীবনের ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘ক্রিস্টাল জুবিলি’ অনুষ্ঠানের দাওয়াত কার্ডে একাধিক বানান ও নামের ভুল নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। দাওয়াতপত্রে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নাম ও পদবি বিকৃতভাবে ছাপানোর পাশাপাশি বিভিন্ন শব্দেও ভুল করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার কার্ডে ২৭টি ভুলের কথা উল্লেখ করেন। অন্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব মিলিয়ে ভুলের সংখ্যা ২৯টি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর ঢাকা অফিসার্স ক্লাবে এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
অনুষ্ঠানের দাওয়াত কার্ডে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের পদবিতে ‘মুখ্য সচিব’-এর পরিবর্তে লেখা হয় ‘মুথ্য সচির’। জনপ্রশাসন সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর নাম লেখা হয় ‘কামরুজ্ঞামান’। এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের নামের জায়গায় লেখা হয় ‘বিভ্যাগর’। এভাবে পুরো দাওয়াতপত্রে ২৯টি ভুল ছিল বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে এ ধরনের ভুলের বিষয়টি সামনে আসার পর বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্যাচের কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘আমি দেখলাম, দাওয়াত কার্ডে ২৭টি ভুল। এটা আপনাদের কাছে প্রত্যাশিত নয়।’
প্রশাসনের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ভুলগুলো অনিচ্ছাকৃত হতে পারে। তবে দাওয়াত কার্ড ছাপানোর পর তা একাধিকবার যাচাই করার সুযোগ ছিল। ভুলগুলো নজরে আসার পরও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। বিশেষ করে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নাম ও পদবি ভুলভাবে উপস্থাপন করা শোভন হয়নি। এতে ব্যাচের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, একটি দাওয়াত কার্ডে এতগুলো ভুল ধরা পড়া বিব্রতকর। ব্যাচের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম-পদবিতে ভুল না থাকলেও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নাম ও পদবিতে ভুল থাকাটা দৃষ্টিকটু হয়েছে। বিষয়টি উপস্থিত অনেক কর্মকর্তাকে বিব্রত করেছে।
এ ঘটনায় ব্যাচের বর্তমান কমিটির দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। তাদের মতে, দাওয়াতপত্র ছাপানোর আগে যথাযথভাবে সম্পাদনা ও যাচাই করা হলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব ছিল।
বর্তমানে বিসিএস ২৯তম ব্যাচের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টার একান্ত সচিব তারিক হাসান। সাধারণ সম্পাদক অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের উপসচিব র. হ. ম. আলাওল কবির। দাওয়াতপত্রের ভুলের ঘটনায় ব্যাচের সাধারণ সম্পাদক দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
জেবি