নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
নিজের কার্যালয়ে বৈঠক করছিলেন রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকি। এ সময় আট থেকে নয়জন ব্যক্তি তাঁর কক্ষে ঢুকে তাঁকে চেয়ার থেকে টেনে তোলেন। এরপর তাঁকে মারধর করা হয়।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কাজী আহমেদ নিজের কক্ষে কয়েকজনের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। এ সময় একদল ব্যক্তি কক্ষে প্রবেশ করে তাঁকে চেয়ার থেকে টেনে তুলে মারধর শুরু করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ। তবে পরিচালকের ওপর হামলার কারণ জানতে চাইলে তিনি কাজী আহমেদের দোষের কথা উল্লেখ করেন। হারুন আল রশিদ বলেন, ‘ওর (কাজী আহমেদ) ও তো কিছু দোষ আছে।’
কী দোষ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই সরকারের সময় কাজী আহমেদ কী করে মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার সঙ্গে তার (কাজী আহমেদ) নিজের অফিসে বৈঠক করে?’
এদিকে ঘটনার সময় পরিচালকের কক্ষে উপস্থিত থাকা একজন জনস্বাস্থ্যবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হামলাকারীদের তিনি এর আগে কখনো আইইডিসিআরে দেখেননি।
আইইডিসিআর দেশে রোগের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, গবেষণা ও সতর্কবার্তা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গেও প্রতিষ্ঠানটি যৌথভাবে কাজ করে।
বিএনপি সরকার গঠনের পর আইইডিসিআরের পরিচালক পদে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সম্প্রতি হামের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা করেন তিনি।
ড্যাব সভাপতির বক্তব্যে উঠে আসা মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং আইইডিসিআরের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। করোনাভাইরাস নিয়ে সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে তিনি পরিচিতি পান। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন।
আইইডিসিআরের পরিচালকের কক্ষে ঢুকে তাঁকে মারধরের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পরিচালকের নিজের কক্ষে তাঁকে মারধর করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ঘটনার তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে হবে।
এআর