নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৫ পিএম
হাত ধোয়া ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, ডায়রিয়া ও খাদ্যবাহিত রোগ প্রতিরোধে খাবার আগে এবং শৌচাগার ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়া জরুরি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। ফাস্টফুড খাওয়ার সময় সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার সুযোগ না থাকলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। এসব অভ্যাস নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব।
ঢাকার পানির সরবরাহ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা ওয়াসা প্রতিদিন প্রায় ৩১৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করে। এর মধ্যে ৭৪ শতাংশ ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে এবং ২৬ শতাংশ নদীর পানি শোধনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।
ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানো এবং ভূমিকম্পের ঝুঁকি এড়াতে আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে পদ্মা নদী থেকে ঢাকায় অতিরিক্ত ১০০ কোটি লিটার পানি সরবরাহের জন্য সরকার নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে পানির অপচয় রোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতার বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকের মধ্যে ভিটামিন ‘ডি’র ঘাটতির কারণে ক্লান্তি দেখা যায়। এ জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ‘ডি’ গ্রহণের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার দিকে নজর দিতে হবে। সুস্থ থাকতে নিয়মিত খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফের ডেপুটি প্রতিনিধি মালালাই আহমাদজাই, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি (ভারপ্রাপ্ত) রাজেশ নারওয়াল এবং ইউনিসেফের পানি, পয়োনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যবিধি বিভাগের প্রধান পিটার মায়েস।
অতিথিরা বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে নিয়মিত হাত ধোয়া ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। পরে শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়া ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার শপথ পাঠ করানো হয়।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।
এএইচ/এসআই