নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৫ এএম
ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-১-এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম প্যাকেজের নকশা ও নির্মাণকাজের চুক্তি পেয়েছে ভারতের অবকাঠামো খাতের প্রতিষ্ঠান লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি)। চুক্তির আওতায় রেললাইন নির্মাণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ, সংকেতব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ ও প্ল্যাটফর্মে স্ক্রিন ডোর স্থাপনের কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভারতের শেয়ারবাজারে দেওয়া এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছে এলঅ্যান্ডটি। প্রতিষ্ঠানটি চুক্তি দুটিকে ‘মেজর’ শ্রেণির আদেশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের প্রকাশিত শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, এ শ্রেণির চুক্তির মূল্য ৫ হাজার কোটি থেকে ১০ হাজার কোটি ভারতীয় রুপি। বাংলাদেশি টাকায় এর আনুমানিক পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার কোটি থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকা হতে পারে।
প্যাকেজ-০৯-এর কাজ জাপানি প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে এলঅ্যান্ডটি। এ প্যাকেজে রেললাইন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা, ট্র্যাকশন সাবস্টেশন, ওভারহেড ক্যাটেনারি ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক অবকাঠামোর নকশা, সংগ্রহ, স্থাপন, পরীক্ষা ও চালুর কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অন্যদিকে, প্যাকেজ-১০-এর আওতায় মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের সংকেতব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ ও প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপন করা হবে। এসব ব্যবস্থা ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এলঅ্যান্ডটির পরিবহন অবকাঠামো বিভাগের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান রামকুমার এস বলেন, ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে নতুন করে কাজ পাওয়াকে বড় পরিসরের সমন্বিত নগর পরিবহন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতার স্বীকৃতি হিসেবে দেখছে তারা।
তিনি বলেন, ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-৬-এর বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থা সরবরাহের অভিজ্ঞতা এবং বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন জাকার্তা মেট্রোরেল প্রকল্পের অভিজ্ঞতা নতুন প্রকল্পে কাজে লাগানো হবে। এ ক্ষেত্রে মূল সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক ও অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন ব্যবস্থা একীভূত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এর আগে বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেল করিডর ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-৬-এর সমন্বিত রেলব্যবস্থা প্যাকেজের কাজ পেয়েছিল এলঅ্যান্ডটি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ওই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে লাইন-৬ বাণিজ্যিকভাবে চালু রয়েছে।
ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-১ বাংলাদেশের প্রথম পাতাল ও উড়াল মেট্রোরেল প্রকল্প। প্রায় ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ এ লাইনের দুটি অংশ থাকবে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত অংশটি পাতালপথে এবং নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত অংশটি উড়ালপথে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লাইনে মোট ১৯টি স্টেশন ও পিতলগঞ্জে একটি ডিপো থাকবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর বিমানবন্দর, রামপুরা, মালিবাগ, রাজারবাগ, কমলাপুর ও পূর্বাচল এলাকার মানুষের যাতায়াতের সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় নতুন একটি করিডর যুক্ত হবে।
জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্প। সম্প্রতি মেট্রোরেল লাইন-১ ও লাইন-৫-এর উত্তর রুটের আটটি নির্মাণ প্যাকেজের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এসব প্যাকেজের মোট মূল্য প্রায় ৫৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর পরপরই নতুন চুক্তি পাওয়ার ঘোষণা দিল এলঅ্যান্ডটি।
এলঅ্যান্ডটি ছাড়াও জাপান, চীন ও বাংলাদেশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো মেট্রোরেল লাইন-১ ও লাইন-৫-এর বিভিন্ন প্যাকেজের কাজ পেয়েছে।
এএইচ/