Dhaka Mail Logo

জাতীয়

দুই বাংলাদেশিকে কম্বোডিয়ায় নিয়ে ৫ হাজার ডলারে বিক্রি, গ্রেফতার ২

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম

বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কম্বোডিয়ায় নিয়ে দুই বাংলাদেশি তরুণকে স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে। সেখানে আটকে রেখে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কাজে বাধ্য করা এবং মুক্তির জন্য পরিবারের কাছে ৫ হাজার মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মো. শাওন মোল্লা (২৩) ও মো. সাকিব সরকার (২৬)। তাদের দুজনের বাড়িই গাজীপুরের পূবাইল এলাকায়। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর পল্টন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

সিআইডি জানায়, বিদেশে ভালো চাকরি ও আর্থিকভাবে সচ্ছল জীবনের আশায় মানবপাচার চক্রের প্রলোভনে পড়ে কম্বোডিয়ায় যান ওই দুই তরুণ। তাদের প্রত্যেককে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ছয় লাখ টাকা করে নেওয়া হয়। তবে কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পরই পরিস্থিতি বদলে যায়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে যাওয়ার পরপরই তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়। পরে প্রত্যেককে ৫ হাজার মার্কিন ডলারের বিনিময়ে একটি স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

সেখানে তাদের জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কাজে নিয়োজিত করা হয়। কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে কিংবা সামান্য ভুল করলেও শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো তাদের। নিজেদের ইচ্ছায় সেখান থেকে বেরিয়ে আসা কিংবা নিরাপদে দেশে ফেরার কোনো সুযোগ ছিল না।

একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন ওই দুই তরুণ। তখন স্ক্যাম সেন্টার থেকে তাদের মুক্তির জন্য পরিবারের কাছে ৫ হাজার মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয়। সন্তানদের মুক্তির আশায় পরিবারের সদস্যরা সেই অর্থের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু মুক্তি পাওয়ার পরও তাদের দুর্ভোগ শেষ হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, মুক্তি পাওয়ার পর মানবপাচারকারীরা আবারও তাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায়। এমনকি দেশে ফেরার বিমানের টিকিটের টাকাও পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা হয়। বিদেশে যাওয়ার খরচ, মুক্তিপণ ও দেশে ফেরার টিকিটের অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে পরিবারগুলো চরম আর্থিক সংকটে পড়ে।

পরে ওই দুই তরুণ প্রায় দুই মাস কম্বোডিয়ার একটি স্থানীয় হোটেলে অবস্থান করতে বাধ্য হন। একপর্যায়ে অনলাইনে ব্র্যাক মাইগ্রেশন সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তারা। প্রয়োজনীয় সহায়তায় শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরার ব্যবস্থা হয়। দীর্ঘদিনের বন্দিদশা, নির্যাতন ও অনিশ্চয়তার পর গত ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে ফেরেন তারা।

এ ঘটনায় গত সোমবার পল্টন থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটি পল্টন থানার ২২ নম্বর মামলা।

সিআইডি আরও জানায়, অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি শাওন মোল্লা ও সাকিব সরকারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।

এমআইকে/এআর