Dhaka Mail Logo

জাতীয়

জাহাজভাঙা শিল্পকে ‘লাল’ থেকে ‘কমলা’ করায় বাপার উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ১০ শ্রমিকের মৃত্যুর দেড় মাসের মাথায় জাহাজভাঙা শিল্পের পরিবেশগত শ্রেণি ‘লাল’ থেকে ‘কমলা’ করার সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। সংগঠনটি এ সিদ্ধান্ত স্থগিত ও পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাপার সভাপতি অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৪ আগস্ট সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে এক দিনে ১০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। গত আড়াই দশকে একদিনে এ খাতে এত শ্রমিকের মৃত্যু দেখা যায়নি। শিল্প মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটিও ওই ইয়ার্ডে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় গুরুতর ঘাটতি ও অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে।

এ ঘটনার দেড় মাস পর, গত ২৯ সেপ্টেম্বর সরকারের একটি কমিটি জাহাজভাঙা শিল্পকে পরিবেশগত শ্রেণিবিন্যাসে ‘লাল’ থেকে ‘কমলা’ শ্রেণিতে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) জাহাজভাঙাকে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক পেশাগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে উল্লেখ করে বাপা বলেছে, এমন পরিস্থিতিতে শিল্পটির পরিবেশগত শ্রেণি পরিবর্তন রাষ্ট্রীয় নজরদারি কমিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা-২০২৩ অনুযায়ী, লাল শ্রেণির শিল্প পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের ওপর তীব্র প্রভাব ফেলে। এ কারণে নতুন ইয়ার্ড স্থাপনের আগে পূর্ণাঙ্গ পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) বাধ্যতামূলক। তবে মালিকপক্ষের দাবি, লাল শ্রেণিতে অনুমোদন পেতে প্রায় ৯০ দিন সময় লাগে, যা তাদের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়। অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগার যুক্তিতে শ্রমিকের জীবন ও পরিবেশ সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বিধিবিধান শিথিল করা গ্রহণযোগ্য নয়।

সংগঠনটি জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গঠিত একটি কমিটি জাহাজভাঙা শিল্পের শ্রেণি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিটিতে পরিবেশমন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী ও কয়েকজন সচিব থাকলেও কোনো পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, শ্রমিক প্রতিনিধি বা নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধি রাখা হয়নি। অথচ সেন্টমার্টিন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সরকার পরিবেশবাদীদের মতামত নিয়েছিল।

বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে পাঁচটি দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরেছে বাপা।

সংগঠনটি বলেছে, জাহাজভাঙা শিল্পকে লাল শ্রেণিতে বহাল রেখে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, শ্রমিক প্রতিনিধি ও আইনজ্ঞদের যুক্ত করে সিদ্ধান্তটি নতুন করে পর্যালোচনা করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষার বাধ্যবাধকতা বহাল রেখে অনুমোদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং অনলাইন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছে তারা।

এ ছাড়া কোনো গ্রিন ইয়ার্ডে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সনদ পুনর্মূল্যায়ন এবং বারবার দুর্ঘটনা ঘটলে সনদ বাতিলের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। প্রতিটি দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের দাবিও জানিয়েছে বাপা।

শ্রমিকের মৃত্যু বা আহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের জন্য আইনি মানদণ্ড প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকের বয়স, অবশিষ্ট কর্মজীবন ও পরিবারের ক্ষতি বিবেচনায় নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। কয়েক লাখ টাকা একজন মানুষের জীবনের মূল্য হতে পারে না।

এএইচ/এসআই