Dhaka Mail Logo

জাতীয়

মাথাপিছু জিডিপিতে আবারও ভারতকে ছাড়াচ্ছে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৩ পিএম

মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ২০২৬ সালে আবারও ভারতের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াতে পারে ২ হাজার ৮৮৬ ডলার। অন্যদিকে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি হতে পারে ২ হাজার ৭৪৯ ডলার। অর্থাৎ এ সূচকে ভারতের চেয়ে ১৩৭ ডলার এগিয়ে থাকতে পারে বাংলাদেশ।

আইএমএফের ২০২৬ সালের অক্টোবরের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়েছে। এর আগে ২০২০ সালেও মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। পরে আবারও এগিয়ে যায় ভারত। আইএমএফের পূর্বাভাস সত্যি হলে চলতি বছর আবারও এ সূচকে প্রতিবেশী দেশটির চেয়ে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ।

তবে মাথাপিছু জিডিপিতে এগিয়ে থাকলেও অর্থনীতির সামগ্রিক আকারে ভারতের তুলনায় অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালে ভারতের মোট জিডিপি ৪ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বিপরীতে বাংলাদেশের জিডিপি হতে পারে ৫০৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ভারতের অর্থনীতির আকার বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় আট গুণ বড় হতে পারে।

ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পিপিপির হিসাবেও এগিয়ে ভারত। এ পদ্ধতিতে দুই দেশের জীবনযাত্রার ব্যয় ও স্থানীয় মূল্যস্তরের পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়া হয়। 

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে পিপিপির ভিত্তিতে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি হতে পারে ১২ হাজার ৯৯৮ ডলার। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা ১০ হাজার ৮৮৪ ডলার।

গত দুই দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে তৈরি পোশাকশিল্প, প্রবাসী আয় এবং শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সময়ে দেশের উৎপাদন খাতের অবদানও বেড়েছে।

ভারতের অর্থনীতিবিদ সন্তোষ মেহরোত্রার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট মূল্য সংযোজনে উৎপাদন খাতের অবদান ২০১৪ সালে ছিল ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ২২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ভারতের জিডিপিতে উৎপাদন খাতের মূল্য সংযোজনের অবদান ২০১৪ সালের ১৫ দশমিক ১ শতাংশ থেকে ২০২৪ সালে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে।

তবে মাথাপিছু জিডিপিতে এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা থাকলেও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ রয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, প্রবৃদ্ধির ধীরগতি ও জ্বালানি সংকট দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে কঠিন করে তুলছে।

প্রয়োজনীয় তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ৯৫ শতাংশ আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করছে। পাশাপাশি রফতানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি তৈরি পোশাক খাত থেকে আসায় বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে দেশের রফতানি আয়েও ঝুঁকি তৈরি হয়।

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালেও মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশের এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই বছর বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হতে পারে ৩ হাজার ২১৯ ডলার। ভারতের ক্ষেত্রে তা হতে পারে ৩ হাজার ৩৬ ডলার।

২০২৮ সালেও সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে পারে বাংলাদেশ। তবে ২০২৯ সালে ভারত বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। ওই বছর ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ৩ হাজার ৬৬১ ডলার এবং বাংলাদেশের ৩ হাজার ৩৩৪ ডলার হতে পারে।

মাথাপিছু জিডিপি একটি দেশের মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে নির্ণয় করা হয়। ফলে এ সূচকে এগিয়ে থাকা মানেই দেশের সব মানুষের আয় বা জীবনযাত্রার মান বেশি হওয়া নয়। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, রপ্তানির বহুমুখীকরণ এবং জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

এএইচ/এআরএম