Dhaka Mail Logo

জাতীয়

মোহাম্মদপুরে ব্যবসায়ীকে অপহরণ; ডিজিএফআই-আনসারসহ ৬ জন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর ১০ লাখ টাকা আদায় করার চেষ্টার অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদর মধ্যে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্য ও আনসার বাহিনীর একজন সদস্য রয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
‎
‎শনিবার (২৪ অক্টোবার) দিবাগত রাতে শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
‎
‎গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ডিজিএফআই সদর দপ্তরের সার্জেন্ট আল মামুন, ল্যান্স করপোরাল নুরুজ্জামান, আনসার সদস্য সোহেল রানা এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাপ্রহরী মুকুল গাজী। নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার মাহফুজুর রহমান ও লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থানার জিয়াউল ইসলাম। এ মামলায় ভুক্তভোগী সোনিয়া ও ফনিরুল ওরফে মনিরুল নামে আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে।
‎
‎পুলিশ একটি সূত্র জানায়, গ্রেফতারের পর ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্যকে নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। পরে সেনাসদরের কর্মকর্তারা থানায় এসে বিষয়টি যাচাই করেন। এরপর তাদের ছয়জনকে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

মামলার বাদী একজন মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী মো. শরীফ মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, পাশাপাশি বাসা হওয়ার সুবাদে আনসার সদস্য সোহেল রানার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। শনিবার সোহেল রানা মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনের একটি বাসায় নিয়ে যান। ওই বাসায় সোনিয়া নামে এক নারী ছিলেন। সোহেল তাকে নিজের বোন বলে পরিচয় দেন। পরে বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে সোহেল ঘর থেকে বের হয়ে যান। কিছুক্ষণ পর মামলার অন্য আসামিরা সেখানে এসে শরীফকে মারধর করেন এবং তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন।
‎
‎বাদীর অভিযোগ, তিনি ঘটনাস্থলেই আসামিদের ৭০ হাজার টাকা দেন। কিন্তু এতে তারা সন্তুষ্ট না হয়ে তাকে আরও মারধর করেন। পরে তিনি পরিবারের সদস্যদের ফোন করে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করেন। এ সময় ভুক্তভোগী ওই ব্যবসায়ীকে বাসায় আটকে রাখা হয়। এরপর ভোর ৩টার সময় আসামিরা শরীফকে ওই বাসা থেকে নামিয়ে একটি টয়োটা গাড়িতে তোলেন। পরে গাড়িটি শেরেবাংলা নগরে শিশু হাসপাতালের বিপরীত পাশে রেখে তারা চা পান করতে নামেন। এ সময় শরীফ একটি পুলিশের গাড়ি দেখতে পেয়ে দৌড়ে গিয়ে সহায়তা চান।
‎
‎পুলিশের ওই গাড়িটি ছিল শেরেবাংলা নগর থানার টহল দলের। ব্যবসায়ীর অভিযোগ শুনে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ৬ জনকে গ্রেফতার করে।
‎
‎এ বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, শিশু হাসপাতালের কাছে আমাদের চেক পোস্ট ছিল। সেখানে ওই ব্যবসায়ী আমাদের সহায়তা চাইলে পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পরে তাদের গ্রেফতার করে মোহাম্মদপুর থানায় গাড়িসহ হস্তান্তর করা হয়। যেহেতু মূল ঘটনা মোহাম্মদপুর থানায় তাই মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরের বিষয়গুলো আমি বলতে পারছি না।
‎
‎একেএস/এআরএম