Dhaka Mail Logo

জাতীয়

রাজউকের ১০৭৪ প্লটের কার্যক্রম স্থগিত, তদন্তের মুখে ১৪১৩টি

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৯ পিএম

রাজধানীর অভিজাত আবাসিক এলাকাগুলোতে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় বরাদ্দ দেওয়া ১ হাজার ৪১৩টি প্লটের নথি যাচাই ও তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। 

এরই মধ্যে প্রাথমিকভাবে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ৮৭৪টি এবং ঝিলমিল আবাসিক এলাকার ২০০টি প্লটের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে এসব বরাদ্দের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়। কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গুলশান, বনানী, উত্তরা, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প ও ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় রাজনৈতিক বিবেচনায় মোট ১ হাজার ৪১৩টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৯৪৪টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয় পূর্বাচল প্রকল্পে।

রাজউকের এসব প্লট বরাদ্দে কোনো অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ড হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হাইকোর্ট বিভাগের রুলের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত একটি কমিটি নথিপত্র পরীক্ষা করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পূর্বাচলের ৮৭৪টি ও ঝিলমিলের ২০০টি প্লটের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

বৈঠকে জানানো হয়, রাজনৈতিক বিবেচনায় প্লট বরাদ্দ এবং এতে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে। এরপর পর্যালোচনা করে এসব প্লটের বিষয়ে চূড়ান্ত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিজয় দিবসে নতুন সচিবালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর

বৈঠকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁওয়ে নতুন সচিবালয় নির্মাণের অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়। আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কমিটিকে জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরস্থানের মূল অবকাঠামো পুনর্র্নিমাণ এবং প্রাঙ্গণের অসমাপ্ত সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ পর্যালোচনা করা হয়। 

রাজউক ও গণপূর্ত অধিদফতর জানিয়েছে, কাজ দ্রুত শেষ করতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ

সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রকল্পের প্রস্তাবও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। ‘এনহ্যান্সিং ক্লিন এনার্জি অ্যাকসেস থ্রু রুফটপ সোলার পিভি ইন পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ শীর্ষক প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সৌর প্যানেলের মাধ্যমে ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। সরকারি ভবনগুলোর নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

বৈঠকে জাতীয় সংসদ ভবনকেন্দ্রিক গণপূর্ত অধিদপ্তরের ২০২৬ সালে সম্পন্ন হওয়া পূর্তকাজের বিবরণও তুলে ধরা হয়। সংসদ ভবনের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও এর ভাবগাম্ভীর্য অক্ষুণ্ন রাখতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দেন কমিটির সভাপতি ও সদস্যরা।

বৈঠকের শুরুতে কমিটির প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণী নিশ্চিত করা হয় এবং আগের সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

এ সময় কমিটির সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, মো. লুৎফুজ্জামান বাবর, শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, এম মঞ্জুরুল করিম রনি, মো. রুহুল আমিন ও মো. তাজউদ্দীন খান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দফতর ও সংস্থার প্রধানেরা বৈঠকে অংশ নেন।

এমআর/এএইচ