Dhaka Mail Logo

জাতীয়

প্যাকেটজাত খাবারে সতর্কবার্তা চালুর দাবিতে দেশজুড়ে প্রচার

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম

প্যাকেটজাত খাবার ও পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বির উপস্থিতি সম্পর্কে ভোক্তাদের সচেতন করতে মোড়কের সামনে সতর্কবার্তা চালুর দাবিতে দেশজুড়ে প্রচারণা শুরু হয়েছে। সাত সপ্তাহব্যাপী এ প্রচারণার মাধ্যমে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের ঝুঁকি তুলে ধরার পাশাপাশি প্যাকেটজাত খাদ্য ও পানীয়ের মোড়কে সতর্কবার্তাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সরকারকে সহায়তা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
 
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এ প্রচারণার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম।
 
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অতিপ্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও পানীয়ের মোড়কের সামনে সতর্কবার্তা বা ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেল (এফওপিএল) চালুর পক্ষে গণমাধ্যমভিত্তিক এ প্রচারণা শুরু হয়েছে।
 
আয়োজকেরা জানান, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশের জন্য অসংক্রামক রোগ দায়ী। হৃদরোগ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস এ ধরনের রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। এ ছাড়া বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অতিরিক্ত ওজনের হার ৩১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং স্থূলতার হার ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ বলে প্রচারণার তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও স্ট্রোকসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
 
প্রচারণার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. সোহেল রেজা চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব এবং গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিভাগের পরিচালক ইকবাল মাসুদ।
 
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ খাদ্য আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। এ লক্ষ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত অস্বাস্থ্যকর মোড়কজাত খাবার ও পানীয় সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা প্রয়োজন।
 
তিনি বলেন, এসব খাদ্যপণ্যের মোড়কের সামনে সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থা, যা ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেল (এফওপিএল) নামে পরিচিত, চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রবিধানমালা প্রণয়নেও কাজ চলছে।
 
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের এবং সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্সের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম।
 
বক্তারা বলেন, প্যাকেটজাত খাবারের মোড়কের সামনের অংশে অষ্টভুজ আকৃতির সতর্কবার্তা থাকলে ভোক্তারা সহজেই বুঝতে পারবেন কোন খাবার বা পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বি রয়েছে। এতে পণ্য কেনার সময় উপাদান সম্পর্কে দ্রুত ধারণা পাওয়া এবং তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া সহজ হবে।
 
তাদের মতে, এ ধরনের সতর্কবার্তা ভোক্তাদের সচেতন করার পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর খাবার ও পানীয় কেনার প্রবণতা কমাতে সহায়তা করতে পারে। খাদ্যপরিবেশ উন্নত করা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে সৃষ্ট রোগের বোঝা কমানোর ক্ষেত্রে এটি একটি বিজ্ঞানভিত্তিক নীতি।
 
সাত সপ্তাহব্যাপী এ প্রচারণা টেলিভিশন, রেডিও, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন ও মুদ্রিত সংবাদপত্র এবং গুগল বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। প্রচারণার উপকরণ হিসেবে ভিডিও ও অডিও বিজ্ঞাপন, স্থিরচিত্র এবং জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন বিষয়বস্তু তৈরি করা হয়েছে। অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পৃষ্ঠাগুলোতেও এসব উপকরণ প্রচার করা হবে।
 
প্রচারণার মূল লক্ষ্য সাধারণভাবে ব্যবহৃত প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যে থাকা অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো। একই সঙ্গে প্যাকেটজাত খাবার ও পানীয়ের মোড়কে সতর্কবার্তাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে সরকারকে সহায়তা করা।
 
কর্মসূচিটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে কোয়ালিশন অব হেলদি ফুড, সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স, ঢাকা আহছানিয়া মিশন, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, প্রজ্ঞা এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট।
 
এএইচ/এআর