Dhaka Mail Logo

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে তিন অগ্রাধিকার, সম্পর্ক জোরদারের আশা

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৯ পিএম

অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়ন, জাপানি বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো—এই তিন অগ্রাধিকার সামনে রেখে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর চার দিনের এই সরকারি সফরে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেবে বাংলাদেশ।

সফরকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করবেন তারেক রহমান। কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি চলছে। 

দুই দেশের মধ্যে প্রায় আটটি সহযোগিতার দলিল নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত চার-পাঁচটি বা তার বেশি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অর্জন ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার অগ্রাধিকার তুলে ধরে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সফরে বাংলাদেশ ২০২৬-৩১ মেয়াদের জন্য প্রায় ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ইয়েনের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্যাকেজের প্রস্তাব দিতে পারে। এর আওতায় পরিবহন ও নগর যোগাযোগ, শিল্পাঞ্চল ও বন্দর উন্নয়ন, উৎপাদনশিল্প, সেমিকন্ডাক্টর, গাড়ি নির্মাণ, জ্বালানি, জলবায়ু সহনশীলতা, কৃষি, সমুদ্রসম্পদ ও পর্যটনসহ ১২টি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে গত ৬ ফেব্রুয়ারি সই হওয়া অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি, জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়ন ও ব্যয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

ইপিএ বাস্তবায়ন ও রফতানি বাড়ানোর লক্ষ্য

বাংলাদেশের জন্য সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বাস্তবায়ন। ২০২৪ সালে শুরু হওয়া আলোচনা শেষে গত ৬ ফেব্রুয়ারি টোকিওতে দুই দেশের মধ্যে চুক্তিটি সই হয়। বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি হিসেবে বিবেচিত এই সমঝোতার আওতায় বাংলাদেশের রপ্তানি ঝুড়ির প্রায় ৯৭ শতাংশ, অর্থাৎ ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। বিপরীতে বাংলাদেশ জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্যে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে। অন্য অনেক পণ্যে পর্যায়ক্রমে শুল্ক কমানোর ব্যবস্থাও রয়েছে।

তবে চুক্তির সুবিধা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া ও অনুমোদন সম্পন্ন করতে হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী সংসদ অধিবেশনে চুক্তিটি অনুমোদনের বিষয়টি সামনে আসতে পারে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সফরে ইপিএ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি, বিধিবিধান সমন্বয় এবং ব্যবসায়ীদের জন্য চুক্তির সুবিধা কার্যকর করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

চুক্তিটি কার্যকর হলে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়াজাত ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত মাছ ও চিংড়ি, কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং হালকা প্রকৌশল পণ্যের রফতানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং রফতানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ জাপানে প্রায় ১১৮ কোটি ৫০ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে। এই রফতানি আয় ৩০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছে সংগঠনটি। জাপানের বার্ষিক পোশাক আমদানির বড় বাজারে বাংলাদেশের অংশ বাড়াতে শুল্ক সুবিধার পাশাপাশি পণ্যের মান, নকশা ও বৈচিত্র্য উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে।

বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান মনে করেন, জাপানি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত। জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে সংগঠনটি ইতিমধ্যে উত্তরার কার্যালয়ে ‘জাপান ডেস্ক’ চালু করেছে। জাপানি ব্র্যান্ড ও বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

১৪ বিলিয়ন ডলারের সহযোগিতা প্রস্তাব

বাংলাদেশের প্রস্তাবিত ১৪ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্যাকেজের বড় অংশ অবকাঠামো, শিল্পায়ন, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত বরাদ্দের মধ্যে পরিবহন ও নগর যোগাযোগব্যবস্থায় ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার, মাতারবাড়ী ও সমন্বিত শিল্প-বন্দরকেন্দ্রিক উন্নয়নে ৩ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার, উৎপাদনশিল্প, সেমিকন্ডাক্টর ও অটোমোবাইলে ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার এবং জ্বালানি ও জলবায়ু সহনশীলতায় ২ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার রয়েছে। কৃষি, সমুদ্রসম্পদ ও পর্যটন খাতে আরও ১ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব রয়েছে। প্যাকেজটির আওতায় সহজ শর্তের ঋণ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব ও সরাসরি বিনিয়োগের সমন্বয় চায় বাংলাদেশ।

এ ক্ষেত্রে বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগের আওতায় অবকাঠামো, শিল্প ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার মধ্যে সংযোগ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৪ সালে চালু হওয়া এই উদ্যোগের লক্ষ্য বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে জাপানের সহযোগিতা আরও কার্যকর করা।

মাতারবাড়ী ও আড়াইহাজারের মতো এলাকায় অবকাঠামো বিনিয়োগের সঙ্গে শিল্প উৎপাদন, স্থানীয় সরবরাহব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের সংযোগ ঘটানোর সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী। 

তার মতে, বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে প্রস্তুত শিল্পজমি, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ, উন্নত পরিবহন যোগাযোগ এবং অনুমোদন পাওয়ার পূর্বানুমেয় প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, জাপানের শিল্প-অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সংযোগ ঘটাতে পারলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে। বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি জাপানের মাঝারি আকারের কোম্পানি ও বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। এতে স্থানীয় সরবরাহকারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন পদ্ধতি, মান নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের সুযোগ পাবে।

জাপানে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর উদ্যোগ

জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য সুযোগ বাড়ানোও সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে পারে। দেশটিতে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন শিল্পে কর্মীর চাহিদার কারণে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশ এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রশিক্ষিত জনশক্তি পাঠাতে আগ্রহী।

সফরকালে প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ দক্ষ কর্মী ও শিক্ষার্থী জাপানে পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতির কথাও সামনে এসেছে। তবে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হয়েছে কি না কিংবা কতসংখ্যক কর্মী পাঠানোর বিষয়ে দুই দেশ একমত হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

টয়োটার কারখানা ও নতুন শিল্প বিনিয়োগের সম্ভাবনা

জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে গাড়ি উৎপাদনও রয়েছে। টয়োটা তসুশো করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গত ৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে টয়োটা গাড়ি উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৭ সালে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে হাইব্রিড বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের গাড়ির বাজারে স্থানীয় উৎপাদনের সুযোগ বাড়তে পারে। পাশাপাশি যন্ত্রাংশ উৎপাদন, সরবরাহব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট শিল্পে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ ধরনের বিনিয়োগ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, নীতিগত সুবিধা ও বাণিজ্যিক শর্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশনও বাংলাদেশের রানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলেছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে গাড়ি ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনসহ প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিস্তার ঘটানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের শর্ত আলোচনায়

বাংলাদেশে জাপানের অর্থায়নে বাস্তবায়িত বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা মেট্রোরেল, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী অবকাঠামো উন্নয়ন। এসব প্রকল্পে সহযোগিতা দুই দেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারত্বের গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

তবে বড় প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্থায়নের শর্ত নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। ঢাকার এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের ব্যয় ৮৩ শতাংশ এবং এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্পের ব্যয় ১১৩ শতাংশ বেড়েছে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, অর্থায়নের শর্ত এবং জাপানি ঋণের সুদের হার নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা চেয়েছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হবে এবং তা শুধু মেট্রোরেল প্রকল্পে সীমাবদ্ধ থাকবে না। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব দেশ থেকেই কম সুদে ঋণ পেতে চায়। তবে ঋণের শর্ত নির্ধারণে বৈশ্বিক অর্থায়নব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট দেশের নীতিগত বিষয়গুলো প্রভাব ফেলবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর এবং জলবায়ু সহনশীলতাও সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে রয়েছে। জাপানের শিল্প-প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এসব খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

বৈঠক, অর্থনৈতিক ফোরাম ও শিল্পকারখানা পরিদর্শন

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। দুই নেতা নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। বৈঠকের পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন।

তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। পাশাপাশি জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বিনিয়োগের সুযোগ ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা করবেন। তার কর্মসূচিতে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লীগের প্রতিনিধি এবং জাপান-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এছাড়া জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গেও বৈঠকের বিষয়টি বিবেচনায় আছে।

সফরসূচিতে চিবা অঞ্চলের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নাগোয়ার একটি টয়োটা কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে। এসব পরিদর্শনের মাধ্যমে জ্বালানি, শিল্প উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মন্ত্রী, উপদেষ্টা, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা সফর করবেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে প্রতিনিধিদলের জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট ও আঞ্চলিক সহযোগিতা

অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ও দুই প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় আসতে পারে। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান এসব আলোচনার সম্ভাব্য বিষয়।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে তারেক রহমানের সফরকে দুই দেশের ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ হিসেবে দেখা হয়েছে। বাংলাদেশকে জাপানের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের কথাও বলা হয়েছে। হালনাগাদকৃত ‘মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক’ ধারণা বাস্তবায়নে দুই দেশের সমন্বয় বাড়ানোর প্রত্যাশাও জানিয়েছে টোকিও।

গত ১২ আগস্ট ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-জাপান সপ্তম পররাষ্ট্র দফতর পর্যায়ের বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। জাপানের সিনিয়র উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হিরোইয়ুকি নামাজু ওই বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ বাংলাদেশের কাছে পৌঁছে দেন। এবারের সফরে সেই আলোচনাগুলোকে বাস্তব সহযোগিতায় রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ২৮ থেকে ৩১ মে অন্তর্র্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাপান সফর করেন। ওই সফরে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, রেল যোগাযোগ, জলবায়ু সহনশীলতা, বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়। অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য তখন ৬০ বিলিয়ন ইয়েনের ঋণচুক্তিও সই হয়েছিল।

জেবি