নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৫ পিএম
দফায় দফায় উচ্ছেদের পর হকারের দাপটে রাজধানীর গুলিস্তানের রাস্তায় হাঁটা বড় দায় হয়ে পড়েছে। ফুটপাত থেকে শুরু করে মূল সড়ক; যেন সব জায়গায় হকারদের দখলে। ঠিকমতো হাঁটতে পারছেন না পথচারীরাও। ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান শেষ হওয়ার পর আবারও সড়কে ফিরে আসেন হকাররা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে গুলিস্তান ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, গুলিস্তানের মূল সড়ক ও আশপাশের সড়কের দু’পাশে হকাররা দোকান বসিয়েছেন, সেখানে রয়েছে ক্রেতাও। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। যানজটে পড়তে হচ্ছে গাড়িগুলোকে। ঠিক মতো হাঁটতে পারছেন পথচারীরা।
এদিকে, রাজধানীর গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়া, পল্টন, বঙ্গবাজারসহ আশপাশের এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে সিটি করপোরেশনের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ফুটপাত দখল করে রাখা অস্থায়ী দোকান, টংঘর, ভ্যান ও স্টল উচ্ছেদ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয় কিছু হকারকে। অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে অভিযান শেষ হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই গুলিস্তান ফিরে এসেছে আগের চিত্রে।
জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম নামে এক পথচারী ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাব সে উপায় নেই, রাস্তায় নামলে গাড়ির ধাক্কা খাওয়ার ভয়। বারবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও কোনো লাভ হচ্ছে না, কয়েকদিন পরই আবার সব আগের মতো হয়ে যায়। ফুটপাত যদি পথচারীদের জন্য মুক্তই না করা যায়, তবে এসব লোকদেখানো অভিযানের কী অর্থ? প্রশাসনিক কঠোর নজরদারি ও স্থায়ী সমাধানের অভাবই আজকে আমাদের এই ভোগান্তির প্রধান কারণ।’
বায়তুল মোকাররমের সামনে প্রাইভেট কার চালক শাহিদ আহমেদ ঢাকা মেইলকে বলেন, ফুটপাত পার হয়ে হকারদের দোকান যখন মূল সড়কের অর্ধেকটা দখল করে নেয়, তখন গাড়ি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। সামান্য পথ পার হতেই অনেক সময় লাগছে এবং গাড়ি যানজটে আটকে থাকতে হয়।

তিনি বলেন, হকার উচ্ছেদে শুধুমাত্র সাময়িক অভিযান না চালিয়ে, নির্দিষ্ট কোনো স্থানে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে মূল সড়ক পুরোপুরি হকারমুক্ত করা উচিত। তা না হলে গুলিস্তানের এই চরম ভোগান্তি কখনোই শেষ হবে না।
আরেক পথচারী নাজমুল হাসান বলেন, অফিস শেষে বাসায় ফেরার পথে গুলিস্তান দিয়ে যাওয়ার সময় একরকম যুদ্ধ করতে হয়। ফুটপাতে হাঁটার জায়গা নেই, আর মূল সড়কে নামলে রিকশা বা গাড়ির চাপ সামলাতে হয়। প্রতিদিন এই বিড়ম্বনা সহ্য করে যাতায়াত করা ভীষণ কষ্টকর, অথচ প্রশাসন পুরোপুরি নীরব দর্শক হয়ে থাকে।
আরও পড়ুন:
তিনি আরও বলেন, গুলিস্তানে আসলেই মনে হয় আমরা পথচারী নই, যেন হকারদের বাজারের মাঝখানে আটকা পড়ে গেছি। ফুটপাত যদি সবার হাঁটার জন্য উন্মুক্ত না থাকে, তবে সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি কে দেখবে?
গুলিস্তানের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাফিস আলী ঢাকা মেইলকে বলেন, অভিযান চালিয়ে আজ হকারদের সরালে কালকে তারা আবার দ্বিগুণ উৎসাহে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে বসে। শুধু উচ্ছেদ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না, এর পেছনে থাকা অবৈধ সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজদের দমন করতে হবে। আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করা না গেলে গুলিস্তানের এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি কখনোই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
এসএইচ/এসআই