Dhaka Mail Logo

জাতীয়

সামাজিক অবক্ষয় রোধে সাংস্কৃতিক বিপ্লব জরুরি: আবদুস সালাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১১ এএম

সামাজিক অবক্ষয় রোধ, তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

তিনি বলেন, একটি জাতির পরিচয় তার সংস্কৃতি, সাহিত্য ও কৃষ্টির মধ্যে নিহিত। এসব চর্চা দুর্বল হয়ে পড়লে জাতির অগ্রগতিও বাধাগ্রস্ত হয়। তাই সমাজকে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটাতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়ের ৪৯ বছর পূর্তি উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নাটক, গান, নৃত্যসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। নতুন প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক চর্চায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রবীণ শিল্পীদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, গুণীজনদের যথাযথ মূল্যায়নের অভাব এবং সাংস্কৃতিক চর্চার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়ায় সংস্কৃতি অঙ্গনে অবক্ষয় দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে সমাজেও। মাদকাসক্তি, মা-বাবার প্রতি অসম্মান এবং শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের ঘাটতিসহ নানা সামাজিক সমস্যা থেকে উত্তরণে সাংস্কৃতিক চর্চা জোরদার করা প্রয়োজন।

আবদুস সালাম বলেন, আগের প্রজন্মের মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম ছিল প্রবল। দেশ ও সমাজের প্রতি ভালোবাসা থেকে তারা নান্দনিক সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের চিন্তা-চেতনার সঙ্গে আগের প্রজন্মের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এ ব্যবধান কমিয়ে দুই প্রজন্মের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে সামাজিক অবক্ষয় কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে।

নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়ের ৪৯ বছর পেরিয়ে ৫০ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে সংগঠনটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, সংগঠনটির ৫০ বছর পূর্তির কর্মসূচির দায়দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করবেন। নাটক, গান ও নৃত্যচর্চা টিকিয়ে রাখতে হবে। একই সঙ্গে শিল্পকলার বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

নিজের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে আবদুস সালাম বলেন, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বেশ কয়েকটি হল একসময় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল। জহির রায়হানের নামে একটি হলও ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। সেটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়ে সেখানে নাটক মঞ্চায়নের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। নাট্যচর্চা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্টদের শুধু বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার কথা বলেছেন। এ ক্ষেত্রে অন্য কোনো খরচ করতে হবে না বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে দেখভাল করতে হবে। পাশাপাশি সমাজের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তি ও বিত্তবানদের এসব প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসা উচিত। দেশকে ভালো রাখতে হলে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানকে উপেক্ষা করে কেউ এককভাবে ভালো থাকতে পারে না।

তরুণ প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, প্রবীণ শিল্পীদের অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির সঙ্গে তরুণদের উদ্যমের সমন্বয় ঘটাতে হবে। দুই প্রজন্ম একসঙ্গে কাজ করলে দেশের সংস্কৃতি আরও সমৃদ্ধ হবে এবং জাতীয় অগ্রগতির পথ সুগম হবে।

সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের বিনোদনের সুযোগ ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে। এ পরিস্থিতিতে সিনেমা হলসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা জরুরি। এসব প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে হবে, যাতে তারা নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারে।

নিজের মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী সময়ের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন এবং যুদ্ধ-পরবর্তী সময়েও পরিচ্ছন্ন দেশ গড়া, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে, কাউকে বাদ দিয়ে নয়।

এম/এএস