নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৭ পিএম
শেষ হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকেই রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়। দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই মন্দিরে কেউ ছুটে এসেছেন ডেমরা থেকে, কেউ উত্তরা, আবার কেউবা এসেছেন গুলশান-বনানী থেকে।
বিজয়া দশমীতে দেবী মহামায়াকে সিঁদুর ও মিষ্টি নিবেদনের মাধ্যমে পরম শ্রদ্ধা ও ভক্তি জানান ভক্তরা। এরপর শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। বিসর্জনের পরপরই সেখানে উপস্থিত নারীরা একে অপরের সিঁথিতে ও গালে সিঁদুর মাখিয়ে আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠেন। এই ‘সিঁদুর খেলা’ ও মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক প্রীতি, সৌহার্দ্য ও অনাবিল আনন্দ ভাগ করে নেন।
ঢাকার বনানী থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে এসেছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দিয়া বিশ্বাস। জানতে চাইলে তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘মনটা খারাপ, আসছে বছর আবার হবে। মা দুর্গার কাছে অনেক কিছু চেয়েছি। আশা করছি, সেগুলো পূরণ হবে।’
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘মা দুর্গা আনন্দ নিয়ে আসেন, আবার চলে যান। আমরা পৃথিবীতে সুখ, শান্তি আর উন্নতি চাই।’
রাজধানীর ওয়ারীর টিপু সুলতান রোড থেকে বন্ধুদের সঙ্গে আসা স্বপন বণিক বলেন, ‘প্রতিবারের তুলনায় এইবার আমরা পূজাটা বেশি সময় পেয়েছি, খুবই মজা করেছি এই কয়েকদিন। তো আজকে প্রথমেই সকাল থেকে প্ল্যান ছিল যে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আসব, সবাই মিলে মজা করব, সিঁদুর খেলবো- এটাই প্রত্যাশা। আর মা আসবে আবার প্রতিবছর- এটাই প্রত্যাশা করি। আসছে বছর আবার হবে।’

অর্চিয়া ভট্টাচার্য নামে আরেক দর্শনার্থী বলেন, ‘মা চলে গেছে, তাই মনটা একটু খারাপ। তবুও আমরা এটাকে খুব উদযাপন করতেছি। আসছে বছর আবার হবে- এই প্রত্যাশাতেই। সবাই যেন সুস্থ থাকে, দেশের যেন খুব ভালো কিছু হয়, আমাদের পরিবারের সবাই যেন ভালো থাকে এই প্রার্থনা করি।’
বিদায়ের বেদনার মধ্যেও শুভ কামনার কথা জানিয়ে বৈশাখী দাস বলেন, ‘মা দুর্গার কাছে একটাই বলব, যেন আমাদের সবাইকে ভালো রাখে। দেশের যেন মঙ্গল কামনা করে, কোনো বিপদ-আপদ যেন না আসে এইটুকুই। একটা বছর পরে আবার আসবে, খারাপ লাগে। ভালো লাগে, তার ভিতর দিয়েই মা দুর্গাকে বরণ করলাম।’
এসএইচ/এসআই