ঢাকা মেইল ডেস্ক
২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৫ এএম
‘আমরা যে যেই ধর্মেরই হই না কেন, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমাদের একমাত্র পরিচয় আমরা বাংলাদেশের নাগরিক।’ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জের জেএম সেন পূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় শেষে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এদিন সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে সরাসরি পূজামণ্ডপে যান তিনি।
মণ্ডপ পরিদর্শনের সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে এই বাংলাদেশের মানুষ জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন। যারা যুদ্ধ করেছিলেন, যারা শহীদ হয়েছিলেন, সেদিন কিন্তু আমরা দেখিনি— কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিস্টান। আমরা কোনো ধর্ম দেখিনি, আমরা শুধু দেখেছি তারা মুক্তিযুদ্ধ করছিল।’
বক্তব্যের সময় জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে টানেন প্রধানমন্ত্রী। এ অভ্যুত্থানে ধর্ম পরিচয় মুখ্য ছিল না বলে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে এই দেশের মানুষ, ছাত্র-জনতা এক স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। কেউ কিন্তু আমরা জিজ্ঞেস করিনি, গুলি খাওয়া মানুষটি কি মুসলমান নাকি হিন্দু, বৌদ্ধ নাকি খ্রিস্টান। আগামীর বাংলাদেশেও ধর্মের নামে যেন কোনো বিভেদ না থাকে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি এটুকু বলার জন্যই যে, এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার, এই দেশ আমাদের সকলের। আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান যে-যাই হই কেনো, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। আমাদের একমাত্র পরিচয় ধর্মের পরিচয় না। আমাদের একমাত্র পরিচয়- আমরা বাংলাদেশের নাগরিক।’
এ সময় দেশ পরিচালনায় সবার সহযোগিতা চান তিনি। বলেন, ‘আপনি হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান- যাই হন না কেন, একটি সুন্দর ও সাবলম্বী দেশ গড়তে বর্তমান সরকার সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার।
প্রধানমন্ত্রী মণ্ডপ পরিদর্শনের সময় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং চট্টগ্রাম নগর ও জেলার সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মণ্ডপ উন্নয়নে ২০ লাখ টাকা অনুদান দেন প্রধানমন্ত্রী। মণ্ডপ পরিষদের সদস্যরা একটি বনসাই উপহার দেন প্রধানমন্ত্রীকে।
আরআর