Dhaka Mail Logo

জাতীয়

‘আগের মতো আর ভয় নেই, এবার পূজার পরিবেশ সুন্দর’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২১ পিএম

আগে দুর্গাপূজা এলেই প্রতিমা ভাঙচুর ও মন্দিরে হামলার খবর শুনতে হতো। তাই আতঙ্ক নিয়েই পূজা কাটত। তবে এবার সেই ভয় ও আতঙ্ক নেই। পূজামণ্ডপে ঘুরতে আসা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনেকে বলছেন, এবারের পরিবেশ ভালো। নিরাপত্তা নিয়েও তাঁরা স্বস্তিতে আছেন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাঁশবাড়ী মন্দিরে কথা হচ্ছিল শ্যামলী আইডিয়াল স্কুল ও কলেজের গণিতের শিক্ষক দুলাল চন্দ্র সাহার সঙ্গে। এবারের পূজার নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এমন অভিজ্ঞতার কথা জানান।

দুলাল চন্দ্র সাহা বলেন, এক কথায় বলতে গেলে এবার পূজার পরিবেশ চমৎকার। অন্যবার নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটত, কিন্তু এবার তেমন কিছু নেই। নিরাপত্তার পরিবেশও ভালো।

পাশেই আরেকটি অস্থায়ী পূজামণ্ডপে কথা হয় রাখাল রাহার সঙ্গে। তিনিও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান।

এবারের পূজায় বেশ স্বস্তি পাচ্ছেন জানিয়ে বাঁশবাড়ী এলাকার বাসিন্দা গঙ্গা রাণী বলেন, তাঁদের এই মন্দিরে কখনো কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। এবার তো প্রশ্নই আসে না। এবার তাঁরা মন থেকে ভালো অনুভব করছেন। গতকালও ঘুরেছেন। আজও সন্ধ্যার পর ঘুরতে বের হবেন।

দুপুরে এই দুই মন্দিরে তেমন ভিড় ছিল না। তবে বিকেল থেকে ভিড় বাড়বে বলে জানান স্থানীয় লোকজন। তাঁদের ভাষ্য, এসব পূজামণ্ডপে শ্যামলী, মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডির সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আসেন।

সেখান থেকে লালবাগের ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে দেখা গেল, ঢাকেশ্বরী মোড় লোকে লোকারণ্য। বসেছে নানা খাবার ও রকমারি পণ্যের ভাসমান দোকান।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রবেশপথে চোখে পড়ল কড়া নিরাপত্তা। নিরাপত্তাবলয় পেরিয়ে ঢুকতে হলো মন্দিরের ভেতরে। সেখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষের ভিড়। তিল ধারণের ঠাঁই নেই। কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপ হওয়ায় এখানে ভিড়ও বেশি। মন্দিরে প্রবেশের জন্য নারী, পুরুষ, তরুণ-তরুণী এমনকি শিশুদেরও আর্চওয়ে গেট পেরিয়ে যেতে হচ্ছে।

মন্দিরে সকাল থেকে পূজার প্রসাদ বিতরণ করা হচ্ছে। ফলে প্রসাদ নিতে আসা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

মন্দিরে প্রসাদ খাচ্ছিলেন আশুতোষ পাল। এ সময় কথা হলে তিনি জানান, এবার তাঁর কাছে পরিবেশ খুব ভালো লাগছে। স্ত্রী, বাবা ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে তিনি মন্দিরে ঘুরতে এসেছেন।

প্রসাদ বিতরণের লাইনের পাশে অস্থায়ী মিষ্টির দোকানে বাতাসা কিনছিলেন ঢাকেশ্বরী এলাকা থেকে আসা অরূপ দাশ। তিনি বলেন, পরিবেশ খুব ভালো, আবার খুব খারাপ—তাও বলবেন না। তবে নিরাপত্তার দিক থেকে পরিস্থিতি ভালো। অন্য বছরগুলোতে শুরু থেকেই একধরনের অস্বস্তি কাজ করত। মনে ভয় লাগত, এবার বুঝি কী হয়। কিন্তু এবার সেই ভয় কাজ করছে না। তাই পুরো পরিবারকে নিয়ে এসেছেন।

মিরপুর থেকে এই মন্দিরে এসেছেন নগেন রায় ও নেন্দু ঘোষ। তাঁদের সঙ্গে আরও আট থেকে দশজন রয়েছেন। তাঁরা দল বেঁধে ঘুরছেন। প্রথমবারের মতো এই মন্দিরে এসেছেন তাঁরা। মন্দিরের ফটকের বাইরে তাঁদের সঙ্গে কথা হয়।

তাঁরা জানান, এবার পরিবেশ ভালো। তাই তাঁরাও মন খুলে ঘুরছেন।

মন্দিরের ভেতরে কথা হয় স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালনকারী বিশ্বজিৎ বর্মণের সঙ্গে। তিনি জানান, এবার পরিস্থিতি বেশ ভালো। পুলিশ ও এসআরবি ছাড়াও গোয়েন্দারা সাদাপোশাকে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে তাঁরা বেশ স্বস্তি অনুভব করছেন।

তাঁর কথার সত্যতা মিলল মন্দিরের পশ্চিম পাশের একটি কক্ষে গিয়ে। সেখানে বড় বড় এলইডি মনিটরে পুরো মন্দিরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নজরদারি করছিলেন এসআরবির কয়েকজন সদস্য।

পাশেই রয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বুথ। সেখানে কথা হয় চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিউদ্দিন ফারুকের সঙ্গে।

তিনি বলেন, এই মন্দিরের নিরাপত্তায় রোস্টার অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা। প্রতিদিন প্রায় ১০০ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো অঘটন ঘটেনি।

পূজামণ্ডপটি পরিদর্শনে এসেছিলেন এসআরবি-১০-এর সিইও ও অতিরিক্ত ডিআইজি আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, পূজায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অসংগতি দেখা যায়নি। পুরো মন্দির সিসি ক্যামেরার আওতায় এনে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নজরদারি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আকতার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এমআইকে/এআর