নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
একই দিনে দেশের দুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বর্ণ চোরাচালানের দুটি অভিনব কৌশলের সন্ধান পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর (সিআইআইডি)। চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্রাইপ্যান ও সবজি কাটার গ্রেটারের ভেতরে লুকানো স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই যাত্রীর রেক্টামে লুকানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ডিম্বাকৃতির ছয়টি স্বর্ণপেস্টের বস্তু।
রোববার (১৮ অক্টোবর) পরিচালিত এসব অভিযানে উদ্ধার করা স্বর্ণ ও স্বর্ণপেস্টের বস্তুর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
চট্টগ্রামের অভিযানে প্রায় ১ কোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। আর ঢাকার বিমানবন্দরে দুই যাত্রীর কাছ থেকে উদ্ধার করা ছয়টি স্বর্ণপেস্টের বস্তুর প্রাথমিক ওজন ২ কেজি ৭৩৪ গ্রাম। এগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা।
রোববার সকাল ৭টার দিকে আবুধাবি থেকে একটি ফ্লাইটে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন যাত্রী কামরুল ইসলাম। তার পাসপোর্ট নম্বর এ১৩২৪৮৪৬১।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আগে থেকেই গ্রিন চ্যানেলে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। ওই যাত্রী ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার বহনের ঘোষণা দিলেও অতিরিক্ত স্বর্ণ থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
পরে অন্যান্য সংস্থার উপস্থিতিতে তার ব্যাগেজ তল্লাশি করা হয়। এ সময় ফ্রাইপ্যান ও সবজি কাটার গ্রেটারের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো চারটি খণ্ডিত স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়। এগুলোর মোট ওজন ৪৬৬ গ্রাম।
ঘোষিত ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ মোট ৫৬৬ গ্রাম স্বর্ণ আটক করা হয়। শুল্ক-করসহ আটক স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ৯৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
সেদিন সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরেকটি অভিযান চালানো হয়। মালদ্বীপ থেকে একটি ফ্লাইটে আসা দুই যাত্রী মোহাম্মদ সোলাইমান ও জোবায়েদ আহমদের কাছ থেকে এসব স্বর্ণপেস্টের বস্তু উদ্ধার করা হয়।
তাদের পাসপোর্ট নম্বর যথাক্রমে এ২২৩৮২৬৫০ ও এ২৩৩৩৫৫৬২। তল্লাশিতে প্রত্যেকের রেক্টামে লুকানো অবস্থায় তিনটি করে মোট ছয়টি ডিম্বাকৃতির স্বর্ণপেস্টের বস্তু পাওয়া যায়।
উদ্ধার করা ছয়টি বস্তুর মোট প্রাথমিক ওজন ২ কেজি ৭৩৪ গ্রাম। এগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা।
তবে এসব বস্তুতে প্রকৃত স্বর্ণের পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। মামলার আলামতের যথাযথতা ও অখণ্ডতা সংরক্ষণের স্বার্থে বস্তুগুলো অবিকৃত রাখা হয়েছে। উপযুক্ত পরীক্ষার পর বিশুদ্ধ স্বর্ণের ওজন ও প্রকৃত মূল্য নিশ্চিত হওয়া যাবে।
একদিকে নিত্যব্যবহার্য রান্নার সরঞ্জামের ভেতরে স্বর্ণবার লুকিয়ে আনা, অন্যদিকে মানবদেহের অভ্যন্তরে স্বর্ণপেস্টের বস্তু বহন। একই দিনে দুই বিমানবন্দরের এসব ঘটনা স্বর্ণ চোরাচালানে ব্যবহৃত ভিন্নধর্মী কৌশলের চিত্র তুলে ধরেছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর জানিয়েছে, গোপন তথ্য, নিবিড় নজরদারি ও ঝুঁকিভিত্তিক যাত্রী তল্লাশির মাধ্যমে স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এমআর/এএস