নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২০ পিএম
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানের ঘটনায় বিতর্কের জন্ম দেওয়ার পর বিএনপি নেতা ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে কয়েকটি গণমাধ্যমের খবর। এ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
তবে ইশরাক এক ভয়েস মেসেজে দাবি করেছেন, তাকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়ার খবর পুরোপুরি গুজব। এ খবরে কাউকে কান না দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে সমালোচিত হওয়ার পর ইশরাকের প্রতি অসন্তুষ্ট হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমের খবরেও তিনি বিব্রত হন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) তারই জেরে এক ঘরোয়া বৈঠকে পদত্যাগের বিষয়ে ইশরাক হোসেনের মনোভাব জানার জন্য অন্য একজনকে প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব দিয়েছেন বলেও খবর শোনা যাচ্ছে।
তবে মন্ত্রিসভার এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা মেইলকে বলেছেন, ক্যাবিনেট মেটিংয়ে এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে বলে তার জানা নেই।
এছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা ঢাকা মেইলকে জানান, ইশরাকের পদত্যাগের নির্দেশের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না এবং এ ধরনের কোনো কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে আসেনি।
আসলে কী ঘটেছে সেটি আগামীকাল (সোমবার) অফিস খোলার পর বোঝা যাবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন ইশরাক হোসেন। তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র ছিল।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে ঘটনার এক দিনের মাথায় ইশরাককে মন্ত্রিসভা ছাড়ার নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপি ও সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মাদকবিরোধী উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি না থাকলেও একজন প্রতিমন্ত্রীর নিজে অস্ত্র হাতে অভিযানে নামা গ্রহণযোগ্য নয়। মাদক দমনে প্রশাসনকে সক্রিয় করার পরিবর্তে তিনি কেন নিজেই অস্ত্র হাতে অভিযানে নামলেন, সেই প্রশ্ন ওঠে।
বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী যখন রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি আবাসিক এলাকার পরিস্থিতি দেখতে আকস্মিক পরিদর্শন করছেন, তখন একজন প্রতিমন্ত্রীর এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারকে বিব্রত করেছে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির একজন সদস্যও বলেন, ঘটনাটি শুধু ইশরাকের ব্যক্তিগত বিষয় হয়ে থাকেনি; প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদেরও বিব্রত করেছে। একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন আচরণের দায় মন্ত্রিসভাকেও নিতে হবে।
শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর ১৩টি স্থান আকস্মিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি আবাসিক এলাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সেবার মান নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেন তিনি। কোথাও পরিস্থিতির উন্নয়নে সময়ও বেঁধে দেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই পরিদর্শনের দিনই বিকেলে ঘটে ইশরাকের অস্ত্রকাণ্ড। দল ও সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ মনে করছেন, ইশরাকের কর্মকাণ্ডে প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের ইতিবাচক আলোচনা অনেকটাই আড়ালে পড়ে যায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. আবদুল মান্নানকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ইশরাক হোসেন। এরপর বিএনপির সরকারের গঠিত মন্ত্রিসভায় তাকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এএইচ