জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সমাজে সবার সম্মানের সঙ্গে বাঁচার অধিকার আছে। তার সরকার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিসহ যাদের বিশেষ মনোযোগ ও সহযোগিতা প্রয়োজন, তাদের পাশে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু সরকার গঠনের পরই নয়, এর আগেও তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন এবং তাদের সমস্যার কথা শুনেছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেএস) সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেএস) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সাত্তার দুলালের সঞ্চালনায় ৩০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
এ সময় তারা নিজেদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে বেশ কিছু দাবি মেনে নেন।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ততা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানান বক্তারা। বিশেষ করে সরকারি প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও আদালতে ইশারা ভাষার দোভাষী নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আদালত ও হাসপাতালে ইশারা ভাষার দোভাষী নিয়োগের বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
কৃষি খাতে কাজ করতে আগ্রহী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে যথাযথ সহযোগিতা পাওয়ার দাবি জানান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া চাকরিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বয়সসীমা শিথিলের দাবি জানানো হলে তিনি বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সহজলভ্য ও প্রতিবন্ধীবান্ধব গণপরিবহন নিশ্চিত করার দাবিও উঠে আসে অনুষ্ঠানে।
প্রধানমন্ত্রী অন্তত বড় শহরগুলোতে এ ধরনের পরিবহনব্যবস্থা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির দাবির পরিপ্রেক্ষিতেও তিনি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি দাবি এসেছে প্রশিক্ষণ নিয়ে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উপযোগী ও কার্যকর প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেবেন বলে জানান।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও বলেন, সরকার গঠনের পর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ভাতার পরিমাণ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে এ ভাতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে মো. মহসিন নামের একজন প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদ প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি ক্যাপ উপহার এনেছেন বলে জানালে প্রধানমন্ত্রী মঞ্চ থেকে নেমে এসে তা গ্রহণ করেন। এ সময় বিদেশে খেলাধুলায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তার দলকে সহযোগিতা করারও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত বক্তাদের অনুরোধে প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে গ্রুপ ছবিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার৷
বিইউ/এএম