Dhaka Mail Logo

জাতীয়

মক্কায় ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, তথ্য চেয়ে সৌদিকে চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম

সৌদি আরবের মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের আগে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কিছু জানত না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ চিঠি পাঠানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সূত্র প্রথম আলোকে এ তথ্য জানিয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একটি সূত্র জানায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি কনস্যুলেটের নজরে আসে। এরপর ঘটনার বিস্তারিত জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি পাঠানো হয়।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) গত বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশ করে। দণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিরা হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক ও অশালীন কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের গ্রেপ্তার করেছিল।

প্রাথমিক তদন্ত শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে আদালতে পাঠানো হয়। শরিয়াহ আইনের তাআজির বিধানের আওতায় আদালত তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেন। এ বিধানে বিচারক অপরাধের ধরন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় শাস্তি নির্ধারণ করতে পারেন। মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করা এবং অপরাধ সংঘটনের পরিস্থিতি বিবেচনায় এ রায় দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখলে রাজকীয় আদেশে দণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পবিত্র মসজিদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষায় সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে পবিত্র স্থানে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

সৌদি আরবের বেসরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে জেদ্দার আদালতে এ মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চলছিল। এ সময় বাংলাদেশের দুজন বিশিষ্ট নাগরিক দোভাষী হিসেবে সহযোগিতা করেছেন বলেও জানা গেছে।

কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদের পক্ষভুক্ত বাংলাদেশ ও সৌদি আরব উভয় দেশ। সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদেশে কোনো দেশের নাগরিক গ্রেপ্তার হলে বন্দীর অনুরোধে আটককারী দেশকে অবিলম্বে তাঁর দেশের কনস্যুলেটকে অবহিত করতে হয় এবং কনস্যুলার সহায়তার সুযোগ দিতে হয়। তবে এ দুই বাংলাদেশি তাঁদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে কনস্যুলেটকে জানানোর অনুরোধ করেছিলেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ দুই বাংলাদেশিকে আটক করে দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে, এমনটা হওয়ার কথা নয়। তাঁদের পক্ষে কেউ বাংলাদেশ মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি কেন, সেটিও রহস্যজনক।

নিহত দুই বাংলাদেশি সৌদি আরবে কী ধরনের অবস্থান নিয়ে কত দিন ছিলেন, বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁরা আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন কি না এবং আপিলের সুযোগ নিয়েছিলেন কি না, এসব বিষয়েও এখন পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এআর