Dhaka Mail Logo

জাতীয়

যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস: গ্রেফতার ৭ জনের মধ্যে ৫ জনই সরকারি কর্মচারী

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকারি বিভিন্ন দফতরের ৫ কর্মচারীসহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। তাদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্রের এক সেট, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রবেশপত্র, সনদপত্র, আটটি মুঠোফোন ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের চেকের ৪৮ পাতা এবং ১০০ ও ৫০ টাকার স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়েছে।

এ চক্র পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট দল।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে তিনটায় এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

তিনি বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। গত ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।

গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে ২৪২টি শূন্যপদে নিয়োগের বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেছিলেন ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। পরীক্ষা সকাল ১১টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ওই দিন সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার পর এসআরবি ছায়া তদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা অনুসন্ধান ও অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় গত ১১ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মতিঝিল থানায় মামলা করা হয়।

image

এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক বলেন, তদন্তে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ, উত্তর তৈরি এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে প্রশ্ন বিতরণের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটির সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে এসব কর্মকাণ্ড চালাতেন।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম (৩৩), চাকরিপ্রত্যাশী মো. মফিজুল ইসলাম (২৩), মো. হাসিনুর রহমান সুজন (৩২), এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম (৩৩), এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ (৩০) এবং এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর (৩৮)।

এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর মতিঝিল এলাকা থেকে রুবেল, মফিজুল ও সুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য এবং মুঠোফোনের কথোপকথন পর্যালোচনা করে পরে উত্তরখান ও মিরপুর-১০ এলাকা থেকে ইমদাদুল ও আসাদুলকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ১৫ অক্টোবর সাভার থেকে নূর মোহাম্মদকে গ্রেফতার করে এসআরবি-৪। সর্বশেষ ১৬ অক্টোবর মোহাম্মদপুর থেকে জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করা হয়।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে রুবেল ইসলাম ও মফিজুল ইসলামের মাধ্যমে চক্রটির আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। মফিজুল নিজেও চাকরিপ্রত্যাশী। এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, তিনি চক্রের একজনকে ১৭ লাখ টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছিলেন। পরে বেশি অর্থ উপার্জনের আশায় তিনি চক্রটির সঙ্গে যুক্ত হন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ভর্তি-বাণিজ্যসংক্রান্ত অর্থ লেনদেনের সময় তাঁদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের মুঠোফোনের কথোপকথন পর্যালোচনা করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সময় ও বিতরণপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে এসআরবি।

প্রশ্নফাঁস চক্রে সরকারি দপ্তরের কর্মচারীরা, উদ্ধার ৪৮ পাতার ব্যাংক চেক

এসআরবি-৩-এর অধিনায়কের দাবি, গত ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটের দিকে নূর মোহাম্মদ একটি সূত্র থেকে প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি পান। পরে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে জাহাঙ্গীর তাকে প্রশ্নপত্রের একটি স্পষ্ট ছবি পাঠান।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, নূর মোহাম্মদ প্রশ্নগুলোর উত্তর তৈরি করে জাহাঙ্গীর ও ইমদাদুলকে পাঠান। পরে চক্রের অন্য সদস্যদের মাধ্যমে প্রশ্ন ও উত্তর বিভিন্ন পরীক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ কাজে রুবেল, মফিজুল, সুজন ও আসাদুলের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথাও জানিয়েছে এসআরবি।

অভিযানে গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১০০ টাকার ১১৬টি স্ট্যাম্প, ৫০ টাকার চারটি স্ট্যাম্প, প্রশ্নপত্রের এক সেট, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ১৯ পাতা, ১০টি সার্টিফিকেট, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকের ৪৮ পাতা, একটি ব্যাংক চেক, বিভিন্ন ক্যাটাগরির আরও ১৫টি সনদপত্র, ছয়টি জাতীয় পরিচয়পত্র, আটটি মুঠোফোন এবং চার হাজার টাকা নগদ জব্দ করা হয়েছে।

এসআরবি জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের উৎস, চক্রের অন্য সহযোগী এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

 এআর