Dhaka Mail Logo

জাতীয়

জলবায়ু ক্ষতিপূরণ ঋণে নয়, সরাসরি অনুদান হিসেবে দেওয়ার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৯ পিএম

জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী ধনী দেশ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি জানিয়েছে ৩৬টি পরিবেশবাদী সংগঠন। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মানুষকে ঋণের পরিবর্তে সরাসরি অনুদান হিসেবে এই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনগুলোর নেতারা। একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অর্থায়ন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও আলোচনা সভা থেকে এসব দাবি জানানো হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ঐতিহাসিক ক্ষয়ক্ষতির ন্যায়সংগত ক্ষতিপূরণের দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মাশফিকুল হাসান টনি বলেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান মাত্র শূন্য দশমিক ৬ শতাংশের মতো। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, পানির লবণাক্ততা, সুপেয় পানির সংকট ও নদীভাঙনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।

নদীভাঙনের ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এমন মানুষও রয়েছেন, যাদের ঘরবাড়ি ১৮ বার পর্যন্ত নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এর পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও জমি অধিগ্রহণের কারণে কৃষিজমির পরিমাণ কমছে। এতে স্থানীয় মানুষের জীবিকার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

মাশফিকুল হাসান টনি বলেন, কুয়াকাটা ও আশপাশের নদ-নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা অনেক জেলে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ভিটেমাটি ও জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এসব মানুষের জন্য ন্যায়সংগত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি কমরেড বদরুল আলম বলেন, গত ২০০ বছরে ধনী ও অধিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশগুলো নিজেদের ভোগ-বিলাস ও মুনাফার স্বার্থে ব্যাপকভাবে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করেছে। এর ফলে যে জলবায়ু সংকট তৈরি হয়েছে, তার ক্ষতি বহন করতে হচ্ছে বাংলাদেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মানুষকে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার মতো দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে। অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলের মানুষকে খরা, অনাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির মতো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। অথচ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশের দায় তুলনামূলকভাবে খুবই কম।

জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ধনী দেশগুলোকে তাদের ঐতিহাসিক দায় স্বীকার করার আহ্বান জানিয়ে বদরুল আলম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে নতুন করে ঋণের বোঝায় না ফেলে সরাসরি অনুদান হিসেবে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ বন্ধ করে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও বায়োগ্যাসের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অর্থায়ন বাড়াতে হবে।

করপোরেট মুনাফার স্বার্থে মানুষের জীবন ও পরিবেশকে ঝুঁকির মুখে ফেলা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতির দায় নির্ধারণ, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ন্যায়সংগত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবি জানান।

এমএইচ/এএস