নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৪ পিএম
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে চিংড়ির গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, চিংড়ি খাতের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে উৎপাদনশীলতা, পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির জন্য উন্নত মৎস্যচাষ পদ্ধতি, চিংড়ির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান অনুসরণ করাও অপরিহার্য।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরাটন ঢাকা হোটেলে বিল্ডিং আ রেজিলিয়েন্ট অ্যান্ড ইনক্লুসিভ শ্রিম্প সাপ্লাই চেইন শীর্ষক সংলাপে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), মন্টেরে বে অ্যাকোয়ারিয়াম এবং বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য প্রতিষ্ঠান টোটালফুড প্রসেসিং যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় টেকসই মৎস্যচাষ সম্প্রসারণ, উৎপাদনের মান উন্নয়ন, জলজ প্রতিবেশব্যবস্থার সুরক্ষা এবং চাষিদের সহায়তায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চিংড়ি খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং এ খাতের মূল্যশৃঙ্খল শক্তিশালী করতে মন্ত্রণালয়, বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে কাজ অব্যাহত থাকবে।
তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট সামুদ্রিক খাদ্য রফতানির পরিমাণ ছিল ৪৪ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে চিংড়ি রফতানি থেকে এসেছে ৩০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এসব রফতানি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং হাজার হাজার চিংড়িচাষি ও শ্রমিকের জীবিকা নির্বাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
শেফদের বাংলাদেশ সফরের গুরুত্ব তুলে ধরে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশের চিংড়ি উৎপাদকদের আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পেতে সহায়তা করবে।
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি, পারস্পরিক আস্থা অর্জন এবং উন্নত বাজারে প্রবেশের সুযোগ সম্প্রসারণেও ভূমিকা রাখবে।
প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের চিংড়ি খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক, টেকসই ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত করে তুলতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের উন্নয়ন সহযোগিতা বিভাগের প্রধান মিশাল ক্রেয়জা। সমাপনী বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স তুনন।
এএইচ/এআরএম