নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
রাজধানীর ফুটপাতের অধিকাংশ টেকটাইল টাইলস ভাঙা ও ট্রাফিক সিগন্যালে শব্দসংকেতের ব্যবস্থা না থাকায় নিরাপদে চলাচলের ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা। ফুটপাতের টেকটাইল টাইলস নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পথ চিনে চলতে সমস্যা হচ্ছে তাদের। অন্যদিকে, ট্রাফিক সিগন্যালে শুধু লাল-সবুজ বাতির মাধ্যমে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করায় কখন রাস্তা পার হওয়া নিরাপদ, তা বুঝতে পারেন না তারা। এ পরিস্থিতিতে ফুটপাত সংস্কারের পাশাপাশি ট্রাফিক সিগন্যালে অডিও সিগন্যাল বা শব্দসংকেত ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব দাবি তুলে ধরেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা। সভায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধি, পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ও ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভায় কর্মজীবী নারী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি নিয়ন্তা গোস্বামী বলেন, মেট্রোরেলের মতো ফুটপাতেও একসময় হলুদ টেকটাইল টাইলস বসানো হয়েছিল। কিন্তু যথাযথ তদারকির অভাবে অনেক জায়গায় সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য তৈরি করা এ নির্দেশক ব্যবস্থা এখন আর কার্যকরভাবে কাজে আসছে না।
তিনি আরও বলেন, সড়কে শুধু লাল-সবুজ বাতির মাধ্যমে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা সংকেত বুঝতে পারেন না। এ সমস্যা সমাধানে মেট্রোরেলের আদলে ট্রাফিক সিগন্যালে শব্দসংকেত ও পুশ-বাটন ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। এতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা রাস্তা পারাপারের সময় নিরাপদ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী প্রতিনিধি বাপ্পি বলেন, সমাজে এখনো অনেকেই সাদাছড়ির অর্থ ও গুরুত্ব বোঝেন না। সাদাছড়ি ব্যবহারকারীদের করুণা নয়, চলাচলের পথে সহযোগিতা প্রয়োজন। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ না করলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের এগিয়ে যাওয়া কঠিন।
শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী শিল্পী আক্তার জানান, ফুটপাত দখল, ভাঙা রাস্তা ও যানবাহন চালকদের অসচেতনতার কারণে চলাচলে ভোগান্তির শিকার হতে হয় আমাদের। প্রতিবন্ধকতা শরীরে থাকতে পারে, কিন্তু নিরাপদে চলাচলের অধিকার সবার সমান।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের এসব সমস্যার বিষয়ে ডিটিসিএর জ্যেষ্ঠ সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মামুনুর রহমান বলেন, টেকটাইলসহ সবার জন্য প্রবেশগম্য ফুটপাতের নকশা ও অধিকার নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। নীতিমালাটি শিগগিরই গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে ভবিষ্যতে শব্দসংকেত ও পুশ-বাটন ব্যবস্থাও চালু করা সম্ভব হবে। প্রাথমিক স্তর থেকে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতা তৈরিতে ডিটিসিএ ‘এসো নিরাপদে পথচলি’ শিরোনামে একটি পুস্তিকা তৈরি করেছে। পাঠ্যপুস্তকেও এ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
সভায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনগুলোকে নীতি প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে ডিজঅ্যাবল্ড চাইল্ড ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন জাহান বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে তাদের জন্য কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত নয়। তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়ন করা হলে কার্যকর সমাধান পাওয়া সম্ভব।
এএইচ/এফএ