Dhaka Mail Logo

জাতীয়

ই-বর্জ্যকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তর করতে চায় সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৬ এএম

প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেছেন, দেশে ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করে নতুন পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগ খুঁজছে সরকার। পাশাপাশি দেশীয় উদ্যোক্তাদেরও এ খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ই-বর্জ্যকে শুধু পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে না দেখে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তর করতে চায় সরকার।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক ই-বর্জ্য দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুশাসন: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও ওয়েস্ট ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইকুইপমেন্ট সোসাইটি বাংলাদেশ যৌথভাবে সম্মেলনের আয়োজন করে। 

ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারের বিস্তারিত পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ই-বর্জ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তা প্রক্রিয়াজাত করে নতুন পণ্য তৈরি করতে পারলে এ খাতে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হবে। বাংলাদেশের ই-বর্জ্য সংগ্রহ করে তা থেকে মধ্যবর্তী পণ্য তৈরি এবং রপ্তানির বিষয়ে কয়েকটি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ায় এ ধরনের কার্যক্রম চলছে। বাংলাদেশেও এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের শিল্প গড়ে তুলতে হলে প্রথমে দেশের অভ্যন্তরে উৎপন্ন বর্জ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করতে হবে। এরপর এ খাতে আমদানি বা শিল্পের কাঁচামাল ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক চুক্তি ও দেশের প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে।

সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বলেন, শুরুতে বিভাগীয় পর্যায়ে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে জেলা পর্যায়েও এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কেন্দ্রে ই-বর্জ্য আলাদা করে সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করা হবে। বর্জ্যের মধ্যে থাকা মূল্যবান ধাতু ও অন্যান্য উপকরণ পুনরুদ্ধার করে নতুন পণ্য তৈরির সুযোগ তৈরি করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ইলেকট্রনিক পণ্যে অল্প পরিমাণে হলেও মূল্যবান ধাতু থাকে। দেশে এসব উপকরণ আলাদা করে পুনরুদ্ধারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ই-বর্জ্য থেকে ব্যবহারযোগ্য উপকরণ পুনরুদ্ধার করা গেলে নতুন শিল্প গড়ে তোলা এবং রপ্তানির মাধ্যমে আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, দেশে স্মার্টফোন, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক যানবাহন ও ব্যাটারির ব্যবহার বাড়ছে। কিন্তু এসব পণ্য ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়লে কীভাবে সংগ্রহ, পুনর্ব্যবহার ও নিরাপদে ব্যবস্থাপনা করা হবে, সে বিষয়ে কার্যকর নীতিমালা প্রয়োজন। বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনার সঙ্গে ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা এবং চার্জিং অবকাঠামোর বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। একইভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়লে ভবিষ্যতে ব্যবহৃত সৌরপ্যানেলসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বর্জ্যে পরিণত হবে। এসব বর্জ্যের ব্যবস্থাপনা নিয়েও আগাম পরিকল্পনা প্রয়োজন।

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বর্জ্য কমানো, পুনরায় ব্যবহার এবং পুনর্ব্যবহারের নীতি বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু সরকারের পক্ষে একা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এ জন্য বেসরকারি উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য অংশীজনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে টেকসই করতে হলে সংগ্রহ করা বর্জ্য শুধু জমিয়ে রাখলে চলবে না। সেখান থেকে ব্যবহারযোগ্য উপকরণ উদ্ধার করে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক পণ্য তৈরি করতে হবে। এভাবে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশদূষণ কমানো সম্ভব হবে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.)। 

এএইচ/এসআই