নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম
নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে লক্ষ্য করে এক ব্যক্তির হট্টগোল ও অসৌজন্যমূলক আচরণের পর তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন সফরসঙ্গী লামিয়া মোর্শেদ। তিনি জানিয়েছেন, ড. ইউনূস পুরোপুরি সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন। ওই ঘটনার কোনো প্রভাব তার ওপর পড়েনি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে লামিয়া মোর্শেদ লেখেন, জেএফকে বিমানবন্দরে ওই ব্যক্তিরা আক্রমণাত্মক আচরণ করার কয়েক মিনিট আগে তিনি ছবিগুলো তুলেছিলেন। পুরো পথজুড়েই তাদের সঙ্গে ভালোবাসা ও সম্মান রয়েছে। ড. ইউনূস একদম ঠিক আছেন।
ওই পোস্টে লামিয়া মোর্শেদ আরও লেখেন, ঘটনাটি ওই ব্যক্তিদের চরম অমানবিক ও নিম্নমানের আচরণ প্রকাশ করেছে। এতে ড. ইউনূসের ওপর কোনো আঁচ পড়েনি। সমর্থনসূচক বার্তা পাঠানোর জন্য বন্ধুদের ধন্যবাদও জানান তিনি।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বারবার ড. ইউনূসের যুক্তরাষ্ট্রে আসার কারণ জানতে চাইতে দেখা যায়। ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, আপনি সন্ত্রাসী। আপনি বাংলাদেশে মানুষ হত্যা করেছেন। কেন এখানে এসেছেন? আমাদের বলুন, কেন এসেছেন?
এদিকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় সরকার ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ড. ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা আওয়ামী সন্ত্রাস। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেবে সরকার। প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে শেখ হাসিনাকে ফেরত চায় ঢাকা।
তিনি বলেন, রিকনসিলিয়েশনের জন্য যারা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ করেছেন, তাদের বিচার হতে হবে। যে দল মানবতাবিরোধী অপরাধ করে চলে গেছে, তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত অনুতাপের কোনো লক্ষণ নেই। বরং তারা নানা ধরনের সংকট তৈরির চেষ্টা করছে।
ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, ড. ইউনূসকে হেনস্তা করার চেষ্টা হয়েছে। তার অপরাধ হলো, শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর তিনি রাষ্ট্রের দায়িত্ব কেন নিয়েছেন। শুধু তার ক্ষেত্রেই নয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও একই ধরনের আচরণের চেষ্টা হয়েছে।
এআর