Dhaka Mail Logo

জাতীয়

সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর চকবাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪২ পিএম

পুরান ঢাকার চকবাজারে মনজুর খান প্লাজা মার্কেটের একটি দোকানে লাগা আগুন সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল চারটার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের নয়টি ইউনিটের চেষ্টায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এর আগে রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করছেন। এ সময় ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ভিড় ছিল।

সিরাজুম মুনিরা জামে মসজিদের বিপরীত পাশে থাকা মার্কেটটিতে আগুন লাগে। আগুনের তীব্রতা কমে এলেও ভবনের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল। আগুনের উৎস শনাক্ত করতে কাজ করছিলেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

এম এম লোদারের খোরশেদ আলম বলেন, ছয়তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত। পরে তা সাততলায় ছড়িয়ে পড়ে। ছয় ও সাততলায় থাকা সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

তিনি জানান, ভবনটি ১০ তলা। প্রথম থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত বিভিন্ন দোকান ও শোরুম রয়েছে। পঞ্চম থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত রয়েছে গুদাম।

ভবনটির নিচতলায় কসমেটিকসের দোকান রয়েছে ব্যবসায়ী সাকলাইন নাদিমের। তিনি বলেন, তার দোকানের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে ছয়তলায় থাকা গুদামে আগুন লেগেছে। এই মুহূর্তে ভেতরের অবস্থা কী, তা বলা যাচ্ছে না।

সাকলাইন নাদিমের ভাষ্য, ছয় ও সাততলায় থাকা গুদামগুলোতে কমবেশি কসমেটিকস, লেদারের ব্যাগ, লাইটার, চশমা ও স্টেশনারি পণ্য ছিল।

ভবনের ভেতরে ঢুকে আগুন নেভানোর কাজ করা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, আগুনের শিখা দেখা না গেলেও ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল। আগুনের উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছিলেন তারা।

ঘণ্টাখানেক নিজেরাই আগুন নেভানোর চেষ্টা

ব্যবসায়ী সাকলাইন নাদিম বলেন, বিকেল পাঁচটার দিকে তিনি মার্কেটে আগুন লাগার খবর পান। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন। তার ধারণা, আসরের নামাজের পরপরই আগুন লাগে। এরপর ছয়তলার গুদামে থাকা কর্মীরা নিজেরাই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হয়ে পরে তারা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।

রুবেল নামে ভবনটির একটি দোকানের কর্মী বলেন, বিকেল চারটার দিকে আগুন লাগে। তারা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু শুধু ধোঁয়া বের হচ্ছিল। পরে তাদের মধ্য থেকে কেউ একজন ফায়ার সার্ভিসে ফোন করেন।

পানির সংকটে মসজিদ থেকে পানি আনেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা

ব্যবসায়ীরা জানান, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সময়মতো রওনা হলেও চকবাজারের যানজট ও ভিড় ঠেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে আধা ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। প্রথমে একটি গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে গাড়িতে থাকা পানি দিয়ে আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। ছয়তলায় পানি দেওয়ার পরই তা শেষ হয়ে যায়।

এরপর পানির উৎস খুঁজতে থাকেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। আশপাশে পানির উৎস না পেয়ে তারা পাশের সিরাজুম মুনিরা জামে মসজিদ থেকে মোটরের সাহায্যে পানি আনেন। সেই পানি দিয়ে আগুন নেভানোর কাজ করেন তারা।

আদিল নামে এক যুবক বলেন, সেখানে পানির ব্যবস্থা না থাকায় আগুন নেভানোর জন্য মসজিদ থেকে পানি আনা হয়েছে।

আগুন লাগার পর চকবাজারের মার্কেটগুলো বন্ধ রয়েছে। পুরো এলাকায় কেনাকাটা বন্ধ থাকলেও উৎসুক মানুষের ভিড় কমেনি। বিশেষ করে ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আনসার ও পুলিশ সদস্যদের।

এমআইকে/এআর