নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের যাতায়াত ও অবস্থানের সময়সীমা, দৈনিক পর্যটকের সংখ্যা এবং পর্যটকবাহী জাহাজ ছাড়ার স্থান পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা ও যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে নতুন সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত পর্যটন নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান নির্দেশনা বহাল থাকবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক গমন বিষয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এসব কথা জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন রেখেই পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দ্বীপের ধারণক্ষমতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা এবং সামুদ্রিক পরিবেশের ওপর পর্যটনের প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মতামতের ভিত্তিতে পর্যটন ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো আরও পর্যালোচনা করা হবে।
সভায় জানানো হয়, ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে পর্যটকেরা শুধু দিনের বেলায় সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন। একই দিনে তাদের ফিরে আসতে হবে; রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকবে না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে দ্বীপে রাত্রিযাপন করা যাবে। তবে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারের বেশি পর্যটক ভ্রমণ করতে পারবেন না। ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ থাকবে।
২০২৬-২৭ পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে এসব বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার বিষয়টি সভায় আলোচনা হয়। বিশেষ করে পর্যটনের সময়সীমা, দৈনিক পর্যটকের সংখ্যা এবং জাহাজ ছাড়ার স্থান পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পর্যালোচনা শেষে এ বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এদিকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম পর্যটকদের নির্ধারিত নিয়ম মেনে ভ্রমণের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডসংবলিত টিকিট কিনতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে দেওয়া নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করতে হবে।
দ্বীপে পলিথিন বহন বন্ধ করা, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা এবং পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।
সভায় জানানো হয়, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবালসহ সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাগুলো বহাল থাকবে। এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে রাতে সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টি করা। এ ছাড়া কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচা এবং সৈকতে মোটরসাইকেলসহ অনুরূপ যানবাহন চালানো নিষিদ্ধ থাকবে।
সভায় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম, মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারী উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধি, পর্যটন ব্যবসায়ী এবং পরিবেশ সংগঠনের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। স্থানীয় প্রশাসন ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের কয়েকজন অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।
এমএইচ/এআর