নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম
সরকার নির্ধারিত চারটি মূল্যস্তরের আড়ালে ১২টি ভিন্ন দামে ৫৩ ব্র্যান্ডের সিগারেট বিক্রি হচ্ছে। মূল্যস্তরগুলোর সঙ্গে ‘তদূর্ধ্ব’ শব্দ যুক্ত থাকায় একই স্তরে বিভিন্ন দামে সিগারেট বাজারজাতের সুযোগ পাচ্ছে কোম্পানিগুলো।
এতে সিগারেটের দাম ও কর বাড়িয়েও ধূমপানের ব্যবহার কমানোর সরকারি উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছে বেসরকারি গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)।
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দেশের আটটি বিভাগীয় শহরের ৮০ জন খুচরা বিক্রেতার ওপর জরিপ চালিয়ে এসব তথ্য পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
রোববার (১১ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জরিপের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে প্রজ্ঞা।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, শুধু নিম্নস্তরের সিগারেটই আটটি ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। এ স্তরের নির্ধারিত মূল্য ৬৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব। ফলে এই স্তরে ৬৫ থেকে ৯১ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন দামে সিগারেট বাজারজাত করা সম্ভব হচ্ছে। অথচ মধ্যমস্তরের নির্ধারিত দাম ৯২ টাকা। অর্থাৎ নিম্নস্তরের সবচেয়ে দামি সিগারেটের সঙ্গে মধ্যমস্তরের সিগারেটের দামের ব্যবধান মাত্র দুই টাকা।
প্রজ্ঞার মতে, মূল্যস্তরের সঙ্গে ‘তদূর্ধ্ব’ শব্দ যুক্ত থাকায় তামাক কোম্পানিগুলো একই স্তরের মধ্যে বিভিন্ন দাম নির্ধারণের সুযোগ পাচ্ছে। এতে সরকার নির্ধারিত মূল্যস্তর কার্যকরভাবে একক দাম নিশ্চিত করতে পারছে না। একই সঙ্গে সিগারেটের দাম বাড়িয়ে ধূমপান নিরুৎসাহিত করার নীতিও প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না।
প্রতিষ্ঠানটির জরিপে দেখা গেছে, একই মূল্যস্তরের মধ্যে বিভিন্ন দামের সিগারেট থাকায় দাম বাড়লে ক্রেতারা সহজেই তুলনামূলক কম দামি ব্র্যান্ড বেছে নিতে পারেন। এতে বাড়তি কর ও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এড়িয়ে ধূমপান চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে কম আয়ের মানুষ ও তরুণদের ধূমপান থেকে দূরে রাখতে মূল্যবৃদ্ধির যে কৌশল নেওয়া হয়, তা এ ব্যবস্থায় দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে মনে করছে প্রজ্ঞা।
তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি, সিগারেটের চারটি মূল্যস্তর পর্যায়ক্রমে কমিয়ে একটিতে নিয়ে আসা। প্রজ্ঞা বৈশ্বিক বিভিন্ন গবেষণার বরাত দিয়ে বলছে, একক মূল্যস্তরে সিগারেটের দাম ও কর বাড়ানো হলে মূল্যবৃদ্ধির কার্যকারিতা বাড়ানো সহজ হয়। এতে তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের ধূমপান কমানোর পাশাপাশি নতুন করে ধূমপান শুরু করার প্রবণতাও নিরুৎসাহিত করা সম্ভব।
জরিপের ভিত্তিতে প্রজ্ঞা সিগারেটের মূল্যস্তরগুলোর সঙ্গে ‘তদূর্ধ্ব’ শব্দটি বাদ দিয়ে প্রতিটি স্তরে একক দাম নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে চারটি মূল্যস্তর কমিয়ে একটিতে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রজ্ঞার মতে, মূল্যস্তরের সঙ্গে ‘তদূর্ধ্ব’ শব্দ বাদ দিলে একই স্তরের মধ্যে বিভিন্ন দামে সিগারেট বাজারজাতের সুযোগ সীমিত হবে। আর মূল্যস্তর একটিতে নামিয়ে আনা হলে বিভিন্ন দামের ব্র্যান্ড বেছে নিয়ে কর ও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ কমবে। এতে সিগারেটের ব্যবহার কমানো এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ আরও কার্যকর হতে পারে।
এএইচ/এএইচ