নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
পুলিশের ‘উসকানিমূলক আচরণ ও বাধা’ উপেক্ষা করে রাজধানীর হাজারীবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছেন রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিকরা। এসময় বর্তমান সরকারও ‘বিগত ফ্যাসিবাদের পথে’ দেশ পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ করেন শ্রমিক নেতারা।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে হাজারীবাগ বেড়িবাঁধের বউবাজার এলাকায় রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের হাজারীবাগ থানা কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
পূর্বনির্ধারিত সময় বেলা ১১টায় সমাবেশ শুরুর কথা থাকলেও ‘পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায়’ সকাল সোয়া ৯টায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু করেন শ্রমিকরা।
শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম নাদিম জানান, সকাল ৯টার মধ্যেই সমাবেশস্থলে প্রায় দুই হাজার শ্রমিক জড়ো হন। কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকেই তা পণ্ড করতে পুলিশ শ্রমিক নেতাদের নানাভাবে চাপ দিচ্ছিল। সকালে পুলিশ উসকানিমূলক আচরণের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করলে নির্ধারিত সময়ের আগেই সমাবেশ শুরু করা হয়।
হাজারীবাগ থানা কমিটির সভাপতি সুমন মৃধার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম নাদিম, সহকারী সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী ও হাজারীবাগ থানা সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম।
সমাবেশে নেতারা বলেন, নির্বাচনের আগে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি রিকশাচালকদের জন্য ‘ভালো ভালো কথার ফুলঝুরি’ ছড়িয়েছিল। কিন্তু সরকার গঠনের পরই তারা সব ওয়াদা ভুলে গেছে। ওয়াদা ভঙ্গকারীকে জনগণ দ্বিতীয়বার সুযোগ দেয় না—এই ইতিহাস সরকারকে মনে রাখতে হবে।
শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন নস্যাৎ করতে সরকারি দল ও পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে। বর্তমান সরকার যদি শ্রমিকদের দাবি না মেনে দমন-নিপীড়নের পথ বেছে নেয়, তবে তাদেরও অতীতের ‘স্বৈরাচারদের পরিণতি’ ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে বিচ্ছিন্ন করা বাণিজ্যিক রেটের বৈদ্যুতিক মিটারের সংযোগ ফিরিয়ে দেওয়া এবং অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের নামে হয়রানি বন্ধের দাবি জানানো হয়।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে শ্রমিকদের একটি বিশাল মিছিল বেড়িবাঁধের বউবাজার পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে রায়েরবাজার হাইস্কুল, ১৫ নম্বর বাসস্ট্যান্ড ও শংকর হয়ে রায়েরবাজার জিয়া কলেজ মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
শ্রমিক ইউনিয়নের ১২ দফা দাবি
ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সংকট নিরসনে ১২ দফা দাবি তুলে ধরেছে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন। দাবিগুলো হলো-
১. আধুনিকায়নসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহনের বিআরটিএ লাইসেন্স ও যৌক্তিক রুট পারমিট দেওয়া।
২. চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান।
৩. সকল অংশীজনের অংশগ্রহণে ব্যাটারিচালিত যানবাহন চলাচলের নীতিমালা প্রণয়ন।
৪. হয়রানি-চাঁদাবাজি বন্ধ এবং অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের নামে বৈদ্যুতিক মিটারের সংযোগ কাটা বন্ধ করা।
৫. শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সড়ক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা কমিটি গঠন।
৬. সার্ভিস লেন ও চার্জিং স্টেশন নির্মাণ।
৭. রিট দ্রুত নিষ্পত্তি ও শ্রমিক নেতাদের নামে দেওয়া হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।
৮. জীবিকা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন।
৯. ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে গণপরিবহন ও শিল্পের স্বীকৃতি দেওয়া এবং গ্যারেজগুলোকে ট্রেড লাইসেন্সের আওতায় আনা।
১০. অসাধু বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে যন্ত্রাংশসহ নিত্যপণ্যের দাম কমানো।
১১. শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা।
১২. ব্যাটারিচালিত যানবাহনের পুঁজি নিরাপদ করে পর্যায়ক্রমে প্যাডেলচালিত বাহনের অমানবিক শ্রম থেকে চালকদের মুক্ত করা।
এমআর/এআরএম