নিজস্ব প্রতিবেদক
০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১০ পিএম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে ইউনেস্কোকে যথাযথ কৌশল গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে ইউনেস্কোর কর্মপরিধির মধ্যে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ফ্রান্সের প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দফতরে সংস্থাটির নির্বাহী বোর্ডের ২২৫তম অধিবেশনে বাংলাদেশের জাতীয় বিবৃতি উপস্থাপনকালে এসব কথা বলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ইউনেস্কো নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি কাতারের নাসের বিন হামাদ আল হিনজাব।
শিক্ষা সচিব বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ব্যবস্থার দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে ইউনেস্কোকে কার্যকর কৌশল গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ রক্ষায় সংস্থাটির কার্যক্রমের আওতায় এআই ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াও শুরু গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা দরকার।
বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে আবদুল খালেক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শিক্ষার পথে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ভর্তির হার বাড়ানো এবং প্রাথমিক পর্যায় থেকেই তাদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পড়াশোনা অব্যাহত রাখা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
জাতীয় শিক্ষাক্রমে খেলাধুলা অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। শিক্ষা সচিব বলেন, আধুনিক শিক্ষার লক্ষ্য শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন নয়, বরং শিক্ষার্থীদের বহুমাত্রিক গুণাবলি সম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। এ কারণে জাতীয় শিক্ষাক্রমে ক্রীড়াকে একটি আনুষ্ঠানিক বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে দেশব্যাপী যুব ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
শিক্ষা সচিব আরও বলেন, মাতৃভাষাকে গুরুত্ব দিয়ে বহুভাষিক শিক্ষার প্রসার এবং প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করাও সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয় উল্লেখ করে আবদুল খালেক বলেন, বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা যাতে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ এবং বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়েও বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান শিক্ষা সচিব।
এমএইচ/এফএ