নিজস্ব প্রতিবেদক
০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৭ এএম
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় একজনকে হাতকড়া পরিয়ে বাসা থেকে জোর করে রিহ্যাব সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দুই কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় ব্যবহৃত হাতকড়াটি জব্দ করা হয়।
পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, রিহ্যাব সেন্টারে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাকে রিহ্যাব সেন্টারে ভর্তি করায়।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিম এসব তথ্য জানান।
আটককৃতরা হলো- জসিম উদ্দিন ওরফে পলাশ ও আমিনুর ইসলাম। তারা দুইজনকে রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত লাইটহাউজ রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের কর্মী বলে জানা গেছে।
ওসি আব্দুল আলিম জানান, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিট থেকে ৯টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে মোহাম্মদপুর থানার স্যার সৈয়দ রোডের একটি বাসায় ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তি প্রবেশ করেন। তারা ওই ফ্ল্যাটের মালিক ৬৩ বছর বয়সী সিপার মোস্তফার হাতে হাতকড়া পরিয়ে জোর করে নিচে নামিয়ে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ অনুসন্ধান করে জানতে পারে, সিপার মোস্তফা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তার পরিবারের সদস্যরা পৃথক স্থানে বসবাস করেন। তার ছোট ভাই সাবির মোস্তফা তাকে চিকিৎসার জন্য উত্তরার সেক্টর-১১ এলাকায় অবস্থিত লাইটহাউজ রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
পুলিশ জানায়, এর আগেও ২০২১ সালে সিপার মোস্তফাকে ওই রিহ্যাব সেন্টারে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার পর উত্তরা পশ্চিম থানার মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে সিপার মোস্তফাকে লাইটহাউজ রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
পুলিশের পক্ষ থেকে রিহ্যাব সেন্টারের মালিক ডা. মো. জসিম উদ্দীনের কাছে হাতকড়া ব্যবহারের আইনগত বৈধতা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। তবে তিনি কিছু মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে রিহ্যাবে নেওয়ার সময় হাতকড়া ব্যবহার করা হয় বলে জানান।
এ ঘটনায় লাইটহাউজ রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের দুই কর্মী মো. জসিম উদ্দিন ওরফে পলাশ এবং মো. আমিনুর ইসলামকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ঘটনার সময় ব্যবহৃত হাতকড়াটি উদ্ধার করা হয়। আটক দুজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
একেএস/এআরএম