নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৫ পিএম
গুলশান সেন্ট্রাল পার্কের উন্মুক্ত জায়গা নতুন করে দখল করে স্থাপনা নির্মাণ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে গত চার মাসে চারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ ও ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন পরিবেশবাদীরা।
এর মধ্যে পার্কের নতুন করে দখল ও স্থাপনা নির্মাণের চিত্র সংযুক্ত করে পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) মাঠ, পার্ক, জলাধার দখলমুক্ত আন্দোলনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংগঠনটির অভিযোগ, সরকারের উন্মুক্ত মাঠ ও পার্ক সংরক্ষণের নীতিগত অবস্থান থাকা সত্ত্বেও গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে গুলশান সেন্ট্রাল পার্কের মাঠ ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজউক ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের পূর্ববর্তী বেআইনি স্থাপনা ও দখলকে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে মাঠ, পার্ক ও জলাধার সংরক্ষণসংক্রান্ত আইন এবং আদালতের নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিকভাবে রাজউক ব্যবস্থাপনা চুক্তি করেছে। ওই চুক্তির বিভিন্ন ধারার মাধ্যমে পার্কের মাঠ ভাড়া দিয়ে অর্থ আদায় এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও ব্যবহার সীমিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
সংগঠনটির দাবি, ক্লাবের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে পার্কের উন্মুক্ত জায়গা দখল করে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত জায়গা কমে যাচ্ছে এবং পার্কের স্বাভাবিক ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অর্থের বিনিময়ে মাঠ ব্যবহারের সুযোগ থাকায় আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিরাই বেশি সুবিধা পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবেশবাদীরা আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালে একটি রিট মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিদ্যমান মাঠ ও পার্কে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ না করার বিষয়ে নির্দেশনা দেন। এরপরও ব্যবস্থাপনার নামে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে মাঠে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা ও আইন যথাযথভাবে কার্যকর না হওয়ায় মাঠ ও পার্ক সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগের সরকারের সময়ে গুলশান ইয়ুথ ক্লাব মেয়র ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রভাবিত করে পার্ক ও মাঠের বিভিন্ন জায়গা দখল করে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ পেয়েছিল বলে পরিবেশবাদীদের অভিযোগ। এর ধারাবাহিকতায় রাজউকের সঙ্গে মাঠ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আবারও চুক্তি করা হয়েছে। এর আগে তৎকালীন মেয়র আতিকুল ইসলামের সঙ্গে ২০২৭ সাল পর্যন্ত মাঠ ব্যবহারের একটি চুক্তি হয়েছিল বলেও তারা দাবি করেন।
পরিবেশবাদীদের ধারাবাহিক প্রতিবাদ ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একপর্যায়ে রাজউক পার্কটির দায়িত্ব নিজেদের কাছে ফিরিয়ে নেয় এবং মাঠের বিভিন্ন বেআইনি স্থাপনা বন্ধ করে দেয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। তবে পরে আবার মাঠটি গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় দেওয়ায় নতুন করে দখল ও স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
পরিবেশবাদীদের মতে, গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক কোনো ক্লাবের বাণিজ্যিক সম্পদ নয়, এটি নগরবাসীর উন্মুক্ত নাগরিক সম্পদ। তাই পার্কটির উন্মুক্ত চরিত্র বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের অবাধ ব্যবহার নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
চার মাসে চারবার অভিযোগ জানিয়েও প্রতিকার না পাওয়ায় এবার দখলের বর্তমান চিত্র, নতুন স্থাপনা নির্মাণের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রসহ পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মাঠ, পার্ক, জলাধার দখলমুক্ত আন্দোলন।
সংগঠনটির সদস্যসচিব ইব্রাহীম খলিল বলেন, চার মাস ধরে অভিযোগ জানানোর পরও যদি উন্মুক্ত নাগরিক পার্কে নতুন করে দখল ও স্থাপনা নির্মাণ চলতে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। দ্রুত গুলশান সেন্ট্রাল পার্কের দখল ও বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এএইচ/এএইচ