Dhaka Mail Logo

জাতীয়

বিমানের পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ মন্ত্রীর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৩ পিএম

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পেশাদারিত্ব ও সেবার মান বজায় রাখার জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি তাগিদ দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

তিনি বলেছেন, ‘নতুন এয়ারবাস বিমানের বহরকে শক্তিশালী করবে। তবে শুধু উড়োজাহাজ দিয়ে একটি এয়ারলাইনকে দুর্দান্ত করা সম্ভব নয়, সেটি করতে হবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরই।’

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিমানের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে কর্মীদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার ওপর। তাদের দেওয়া প্রতিটি সেবা, পরিচালিত প্রতিটি ফ্লাইট এবং নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে।’

নিজস্ব বহর বাড়াতে ১০টি এয়ারবাস কেনার উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ উল্লেখ করে এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘বহরের ঘাটতি মেটাতে অন্তত একটি এয়ারবাস দ্রুত সরবরাহ করা প্রয়োজন। ’ এয়ারবাস কর্তৃপক্ষের প্রতি তিনি ২০২৬ সালের মধ্যে অথবা সর্বোচ্চ ২০২৮ সালের মধ্যে একটি উড়োজাহাজ সরবরাহের অনুরোধ জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য আকাশ যোগাযোগের চাহিদাও বাড়ছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ২০ শতাংশ যাত্রী বিমানের মাধ্যমে যাতায়াত করেন। বাকি ৮০ শতাংশ অন্যান্য এয়ারলাইন ব্যবহার করেন। তাই দেশের যাত্রীদের আরও বেশি সেবা দিতে বিমানের নিজস্ব বহর সম্প্রসারণ জরুরি।’

১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান
১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। ছবি- ঢাকা মেইল

১০টি এয়ারবাস কেনার উদ্যোগকে টেকসই মিশ্র বহর তৈরির পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের এসব উড়োজাহাজ বাজারের চাহিদা ও রুটের প্রয়োজন অনুযায়ী বিমানকে আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনায় সহায়তা করবে।’

বিমানকে আধুনিকায়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। 

তিনি বলেন, ‘বিমানকে সেরা এয়ারলাইনগুলোর একটি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য সঠিক অবকাঠামো ও পরিচালন দক্ষতার পাশাপাশি উপযুক্ত রুটের জন্য প্রয়োজনীয় বহর তৈরি করতে হবে।’

বাংলাদেশ থেকে পাঠানো কার্গো ও মেইলকে ২০১৭ সালের জুন থেকে উচ্চ ঝুঁকির হিসেবে বিবেচনা করে আসছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ওই সময়ের উদ্বেগগুলো সমাধানে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।’

তিনি জানান, যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্টের ১৭ জুলাই ২০২৬ সালের মূল্যায়ন অনুযায়ী ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৮ শতাংশ এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৪ শতাংশ মান অর্জন করেছে।

এ কারণে বাংলাদেশের ওপর থাকা বিধিনিষেধ দ্রুত প্রত্যাহারে ইইউর সহযোগিতা চান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. হুমায়ুন কবির, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসাইন, বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিক এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আসিক চৌধুরী।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন এয়ারবাস ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ুর্গেন ওয়েস্টারমায়ার, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, জার্মানির রাষ্ট্রদূত রুদিগার লটস, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সের শার্লে, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্তিগা ওচোয়া চিনচেক্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

বক্তারা বলেন, এয়ারবাস কেনার এ চুক্তি বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের উন্নয়নে সহায়তা করবে। এটি বাংলাদেশকে এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে। পাশাপাশি বিমানের সক্ষমতা ও কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এমআইকে/এএম