Dhaka Mail Logo

জাতীয়

প্রবাসীদের এনআইডি সংশোধনে আসছে ‘প্রবাসী তথ্য ফরম’

মো. মেহেদী হাসান হাসিব

০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম

প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংশোধন আরও সহজ করতে প্রবাসী তথ্য ফরম নামে একটি ফরম চালুর পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ফরমের মাধ্যমে প্রবাসীদের এনআইডি সংশোধনের আবেদন দ্রুত ও সহজে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

ইসি সূত্র জানায়, প্রবাসীদের এনআইডি সংশোধনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। কারণ তারা রেমিট্যান্স যোদ্ধা, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে প্রবাসীদের এনআইডি সংশোধন জটিল হয়ে পড়ে।

সূত্র জানায়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রবাসীরা এনআইডিতে বয়স সংশোধনের আবেদন করেন। কিন্তু আবেদন অনুযায়ী বয়স সংশোধন করা হলে দেখা যায়, ভোটার হওয়ার সময় তাদের বয়স ছিল ৮ থেকে ১০ বছর।

সূত্র আরও জানায়, ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা করা হয়। পরে ওই ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হয়। এখন ২০০৮ সালে ১৮ বছর বয়স দেখিয়ে ভোটার হওয়া কেউ যদি দাবি করেন, ওই সময় তার বয়স ছিল ১০ বছর, তাহলে বিষয়টি যাচাই করা জটিল হয়ে পড়ে।

সূত্রের ভাষ্য, আইনের মধ্যে থেকে যতটা ছাড় দেওয়া যায়, সে জন্যই প্রবাসী তথ্য ফরম চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ফরমে থাকবে যেসব তথ্য

ফরমে কী ধরনের তথ্য দিতে হবে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ইসি কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবিত ফরমে দুটি অংশ থাকবে। প্রথম অংশে প্রবাসী তার ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন। এর মধ্যে থাকবে নাম, কোন দেশে বসবাস করেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন কি না, জন্মতারিখ, পাসপোর্ট নম্বর এবং বিদেশে বসবাসের ঠিকানা।

দ্বিতীয় অংশে থাকবে পিতা-মাতা, ভাই-বোন এবং নিজের পরিবারের সদস্যদের, অর্থাৎ স্ত্রী ও সন্তানের তথ্য। এ ছাড়া আবেদনের সময় ভিসার কপি, পাসপোর্ট ও প্রবাসী–সংক্রান্ত অন্যান্য নথি জমা দিতে হবে।

এসব তথ্য ও নথি থাকলে কে প্রবাসী এবং কে প্রবাসী নন, তা নির্ধারণ করা সহজ হবে। এতে প্রবাসীদের এনআইডি সংশোধনের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে ইসি।

প্রবাসীদের এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়া শিথিল করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, এনআইডি অন্যান্য সাধারণ কার্ডের মতো নয়। তাই প্রবাসীদের এনআইডি সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুসরণ করে বাস্তবভিত্তিক যাচাইয়ের মাধ্যমে কেসভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রবাসীদের এনআইডি সংশোধনের বিষয়ে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হবে।

১৯ দেশে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন

ইসি কর্মকর্তারা জানান, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন সেবা দিতে বর্তমানে ১৯টি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে নির্বাচন কমিশন। দেশগুলো হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, মালদ্বীপ, ওমান, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইডেন, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ড।

এনআইডি সংশোধনের আবেদন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী ক, ক-১, খ, খ-১, গ ও ঘ—এই ছয় ক্যাটাগরিতে নিষ্পত্তি করে ইসি। আবেদনের জটিলতা অনুযায়ী ক্যাটাগরি নির্ধারণ করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ক-১ ক্যাটাগরিতে করণিক ভুল ও স্বাক্ষর পরিবর্তনসহ সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষমতা সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার। মূল নাম ঠিক রেখে বানান সংশোধনের আবেদন ক ক্যাটাগরিতে রাখা হয়, যা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করেন। এ ছাড়া ছবি পরিবর্তন, আঙুলের ছাপ হালনাগাদ এবং জেএসসি, এসএসসি ও অনলাইন শিক্ষা সনদ অনুযায়ী বয়স সংশোধনের আবেদনও এসব কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করেন।

বানান পরিবর্তনের কারণে নামের পরিবর্তন হলে তা খ ক্যাটাগরিতে পড়ে। এসব আবেদন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করেন। পুরো নাম পরিবর্তনের আবেদন গ ক্যাটাগরিতে পড়ে, যা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করেন। ধর্ম পরিবর্তনের কারণে নাম বা শিক্ষাগত যোগ্যতা পরিবর্তনের আবেদন খ-১ ক্যাটাগরিতে পড়ে এবং তা অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করেন।

খ ও খ-১ ক্যাটাগরির বাতিল আবেদন নিষ্পত্তি করেন অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা। সবচেয়ে জটিল আবেদনগুলো ঘ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়। এসব আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষমতা শুধু এনআইডি মহাপরিচালকের।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, আবেদন বাতিল হলে আপিলের সুযোগ রয়েছে। আপিল কর্তৃপক্ষ সচিব। সচিবের মাধ্যমে তথ্য সংশোধন হলেও কমিশনের কাছে রিভিশনের সুযোগ রয়েছে।

ঘ ক্যাটাগরিতে পেন্ডিং ৮২ হাজার ৭৫৬ আবেদন

ইসি সূত্রে জানা যায়, সব ক্যাটাগরি মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার এনআইডি সংশোধনের আবেদন পেন্ডিং রয়েছে। এর মধ্যে সিংহভাগই ঘ ক্যাটাগরির—৮২ হাজার ৭৫৬টি। এর মধ্যে ২০২৫ সালের আবেদন ৭ হাজার ৬০টি এবং ২০২৬ সালের আবেদন ৭৫ হাজার ৬৯৬টি।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (পরিচালনা) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, পেন্ডিং আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে তারা কাজ করছেন। ২০২৫ সালের আবেদনগুলোর নিষ্পত্তির কাজ প্রায় শেষ। এরপর ২০২৬ সালের ঘ ক্যাটাগরির আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হবে।

এমএইচএইচ/এআর