Dhaka Mail Logo

জাতীয়

‘একজন সন্ত্রাসী দিল্লিতে বসে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীলের চেষ্টা করছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম

ভারতে পলাতক ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির। তিনি বললেন, ‘একজন সন্ত্রাসী দিল্লিতে বসে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার করছে।’   

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা ন্যাশনাল ইন্টারেস্টে এনগেজ করব। আর প্রধান চ্যালেঞ্জ—এটা খুব বেশি কিছু চাওয়া নয় যে, দিল্লিতে একজন সন্ত্রাসীকে সংযত করা। একজন সন্ত্রাসী দিল্লিতে বসে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতে আরও কিছু অপরাধী রয়েছে। এসব বিষয়টা দুই দেশের জন্যই বাধা তৈরি করছে। তাই আমরা সংযম দেখাচ্ছি এবং ভারত সরকারের কাছ থেকেও এর প্রতিদান চাই। আমরা চাই, ভারত সরকারও এর বিরুদ্ধে থাকুক। কারণ এটা দুই দেশের জন্যই বাধা। আমরা আশা করি, ভারতও তা করবে না।’

এসময় ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলো সংলাপ ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে ইতিবাচকভাবে সমাধান করা হবে বলেও জানান হুমায়ুন কবির। 

তিনি জানান, ‘দুই দেশের মধ্যে সংলাপ ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা চলছে। এসব আলোচনার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করে একটি ভালো ফলাফলে পৌঁছানো যাবে।’

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য দিল্লিতে একটি সহায়ক পরিবেশ কিভাবে তৈরি হবে, সেই পরিবেশ কেমন হবে- এমন একটি প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আলাপ-আলোচনা, ডায়ালগ, ডিপ্লোম্যাটিক এনগেজমেন্ট—এগুলো তো আছেই। আলাপ-আলোচনা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। আশা করি এই চ্যালেঞ্জগুলোর একটা সমাধান পজিটিভলি আমরা করতে পারব। যেহেতু ডায়ালগ, এনগেজমেন্ট ইজ সো, লেটস ট্রাই। আই অ্যাম শিওর, উই উইল হ্যাভ আউটকাম।’
 
শীর্ষ পর্যায়ের সংলাপ বা কোনো সভা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখনো সচিব পর্যায় বা কর্মকর্তা পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে সংলাপ চলছে। শীর্ষ পর্যায়ের ডায়ালগ তো হবে যখন ভিজিট হবে। এর আগে তো কনক্লুসিভ এনভায়রনমেন্ট করতে হবে অফিশিয়াল লেভেলের ডায়ালগের মাধ্যমে।’

তিনি বলেন, ‘দুই পক্ষেরই এগিয়ে আসতে হবে। ডায়ালগ তো হচ্ছে, বারবারই হচ্ছে। আমরা চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করার চেষ্টা করছি।’

দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সংযম ও পারস্পরিক সহযোগিতাকে স্বাভাবিক নিয়ম হিসেবে দেখার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটাই দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক হওয়া উচিত। যদি এই সংযম, এই ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ একটা নর্ম হয়, আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে তিনি আশাবাদী কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশাবাদী, এটা হবে।’

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী কপ সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কে যেতে পারেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত, তাদের কাছে দায়বদ্ধ। আমাদের দেশ যেন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক—দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যায়, সেটাই চাই। জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস না করে বিশ্বের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে সম্পৃক্ত হতে চাই।’

এএইচ