জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
কর্মসংস্থান বাড়াতে ডিসেম্বরে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের প্রাথমিক কার্যক্রম বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
বিএনপির নির্বাচনি ম্যানিফেস্টোর অঙ্গীকার অনুযায়ী তরুণ সমাজের জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে একথা জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
মাহদী আমিন বলেন, তারুণ্যের সঠিক ক্ষমতায়ন ও মেধার সর্বোচ্চ বিকাশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিই মূল চাবিকাঠি। বাংলাদেশের এই বিশাল ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা ডেমোগ্রাফিক সুবিধা কাজে লাগাতে আগামী ডিসেম্বরে ঢাকা থেকে এই এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ ও ক্যারিয়ার ফেয়ারের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তীতে এটি পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে তারুণ্যের ক্ষমতায়ন অপরিহার্য। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তরুণদের সুপ্ত মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশের মাধ্যমেই এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ দিতে গত ছয় মাস ধরে ইন্ডাস্ট্রি, একাডেমিয়া, বিভিন্ন এনজিও, সরকারি সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক সলাপরামর্শ করা হয়েছে। সর্বসম্মত নীতিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই ডিসেম্বরে এই কার্যক্রম শুরু করা হবে।
এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মূল কাজ হবে শ্রমবাজারের চাহিদা ও যোগানকে এক জায়গায় সংযুক্ত করা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি এর বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী। সরকারের মূল লক্ষ্য তারুণ্যের এই আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে তাদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা এবং মূলধারার শিক্ষার বাইরে থাকা যুব সমাজসহ নতুন গ্র্যাজুয়েটদের সরাসরি জব মার্কেটের সঙ্গে যুক্ত করা।
এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের স্থানীয় পর্যায়ের শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সংস্থায় কর্মসংস্থানের সুযোগ নিরূপণ করা হবে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, একদিকে কর্মক্ষম যুবশক্তির দক্ষতা ও যোগ্যতার ডাটাবেজ থাকবে, অন্যদিকে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাজের চাহিদার হিসাব থাকবে। এই দুইয়ের সমন্বয়ে তৈরি হবে একটি একীভূত জাতীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।
এর পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশব্যাপী নিয়মিত ‘ক্যারিয়ার ফেয়ার’ আয়োজন করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, জেলা পর্যায়ে নিয়মিত ক্যারিয়ার ফেয়ার আয়োজনের মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের দূরত্বের অবসান ঘটিয়ে শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।
চাকরিপ্রার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘এমপ্লয়মেন্ট ওরিয়েন্টেড ইকোসিস্টেম’ গড়ে তোলা হবে বলে জানান মাহদী আমিন।
এই উদ্যোগের আওতায় চাকরির বাজারে প্রবেশকারীদের সিভি রাইটিং, ক্যাপাসিটি বিল্ডিং এবং ইন্টারভিউ মোকাবিলার মতো প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি জানান, এজন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে রেফারেলের মাধ্যমে প্রার্থীদের যুক্ত করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে নিবন্ধনের মাধ্যমে বিদেশ গমনেচ্ছু তরুণ-তরুণীদের প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ পেতে সহায়তা করা হবে। চাকরিদাতা ও চাকরিপ্রার্থী উভয় পক্ষই এই প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন করবেন। আন্তর্জাতিক নিয়োগদাতারা সরাসরি নিবন্ধন না করলেও যেসব তরুণ বিদেশে যেতে চান, তাদের নিবন্ধনের পর সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার বা কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। সরকার এমন একটি ইকোসিস্টেম তৈরি করতে যাচ্ছে, যেখানে যেকোনো তরুণ নিজের ক্যারিয়ার লক্ষ্য জানালে তাকে সঠিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেওয়া হবে।
গত ৫ আগস্টের পর কলকারখানার পরিস্থিতি ও কর্মসংস্থান বিষয়ক অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, চব্বিশের ৫ আগস্টের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কিছু কারখানা যেমন বন্ধ হয়েছে, তেমনি নানা অপপ্রচারের মাঝেও বাস্তব সংখ্যাটি তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। একদিকে কিছু কারখানা বন্ধ হওয়ায় যেমন কর্মসংস্থান কমেছে, তেমনি আবার নতুন বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে এবং অনেক নতুন কারখানা চালু হচ্ছে। আবার বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যার ফলে নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হচ্ছে।
এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম উদ্বোধনের সময়েই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও রোডম্যাপ প্রকাশ করা হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং সবার স্বার্থ রক্ষায় পুরো কাঠামোর সার্বিক কৌশল ও পদ্ধতি নিয়ে বর্তমানে কাজ চলছে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন জানান, তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রাথমিক জোর দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে বেকার ভাতার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। আপাতত তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করাই সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য। বেকার ভাতা চালুর বিষয়টি আগামী দিনগুলোতে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, মন্ত্রণালয়টির সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার প্রমুখ।
বিইউ/এএইচ