Dhaka Mail Logo

জাতীয়

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে শতাধিক নাগরিকের ৬ দফা

নিজস্ব প্রতিবেদক

০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিচারব্যবস্থা ও মানবাধিকার সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ছয় দফা দাবি তুলে ধরেছেন শতাধিক নাগরিক। তাদের অভিযোগ, দখল-চাঁদাবাজির বিস্তার, মানবাধিকার সুরক্ষার আইনি ভিত্তি দুর্বল হওয়া এবং বিচারবহির্ভূত পদক্ষেপের দিকে ঝোঁকের কারণে রাষ্ট্রীয় গুম, খুন ও নিপীড়নের পুরোনো ব্যবস্থা ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এসব উদ্বেগ ও দাবি তুলে ধরেন। বিবৃতিতে সাংবাদিক, শিক্ষক, আইনজীবী, লেখক, গবেষক, মানবাধিকারকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাসহ শতাধিক নাগরিক সমর্থন জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশবাসী একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র আশা করেছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের গত কয়েক মাসের কার্যক্রমে সেই আশা হুমকির মুখে পড়েছে বলে বিবৃতিদাতারা মনে করছেন।

তাদের অভিযোগ, সেপ্টেম্বরে পাস হওয়া তিনটি আইনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া কিছু সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করা হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ সরাসরি তদন্ত ও গোপন আটককেন্দ্র পরিদর্শনের ক্ষমতা কমানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। একই সঙ্গে গুমের ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জবাবদিহির মানদণ্ড শিথিল এবং স্বাধীন তদন্তের পরিবর্তে এক বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ অন্য বাহিনীকে দিয়ে তদন্তের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার অভিযোগ করা হয় বিবৃতিতে।

র‍্যাবের নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ করা হলেও এর ক্ষমতা ও কর্মপদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তন আসেনি বলেও দাবি করেছেন বিবৃতিদাতারা। বিশেষায়িত যেকোনো বাহিনীকে স্বাধীন নজরদারি ও বিচারিক জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিচারব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, তদন্তের দুর্বলতা ও আইনি ফাঁকফোকরের কারণে গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অন্যায্যভাবে জামিন পাচ্ছেন। দলীয় পরিচয়ের কারণে দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গড়িমসির অভিযোগও করেন তারা। তাদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ঘটনা আলোচিত হওয়ার পরই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সরকার ২০০২ সালের ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন বিবৃতিদাতারা। তাদের ভাষ্য, জবাবদিহিহীন ‘কঠোর অভিযান’ নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার ঝুঁকি তৈরি করে। তাই বিচারবহির্ভূত বা দায়মুক্তিমূলক অভিযানের পরিবর্তে প্রচলিত আইনে দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

বিবৃতিতে ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, দলমত নির্বিশেষে দখল, চাঁদাবাজি ও সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া; বিচারবহির্ভূত বা দায়মুক্তিমূলক অভিযান না চালিয়ে প্রচলিত আইনে দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করা; জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পূর্ণ স্বাধীনতা ও তদন্ত-পরিদর্শনের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া; এসআরবিসহ বিশেষায়িত বাহিনীকে স্বাধীন নজরদারি ও বিচারিক জবাবদিহির আওতায় আনা এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের বিশেষায়িত বাহিনীতে পাঠানোর ব্যবস্থা বন্ধ করা; তদন্ত ও প্রসিকিউশন ব্যবস্থা পেশাদার করা এবং গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্তদের ক্ষমতার প্রশ্রয় বা আইনের ফাঁকফোকরে অন্যায্য জামিন পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করা; এবং সংবিধান ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে গণভোটের রায় মেনে সংস্কারের মূল ধারায় ফিরে যাওয়া।

বিবৃতিদাতারা বলেন, বিচারহীনতার চর্চা ও জনম্যান্ডেট থেকে বিচ্যুতি যেকোনো সরকারের গণতান্ত্রিক বৈধতা নষ্ট করে। বলপ্রয়োগ ও দায়মুক্তির পুরোনো পথে না গিয়ে সাংবিধানিক জবাবদিহি এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার আহ্বান জানান তারা।

বিবৃতিতে সমর্থন জানানো ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন:

চর্চার সম্পাদক সোহরাব হাসান, সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য সিনিয়র অ্যাডভোকেট ড. শরীফ ভূঁইয়া, জুলাই শহীদ ইসমাইল হোসেন রাব্বির পিতা মোহাম্মদ মিরাজ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল বাশার, সামাজিক সংগঠক রাফিউর রাব্বি, গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর, সাংবাদিক ও রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য সেলিম খান, জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ, নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, লেখক ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা, ডিএসএ ভিক্টিমস নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক গোলাম মাহফুজ জোয়ার্দার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আয়াতুল্লাহ বেহেস্তি, জুলাই সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আবু প্রান্তর, জুলাই সংগঠক আল আমিন আটিয়া, ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা মুত্তাকী বিন মনির, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক জোটের কার্যকরী সভাপতি মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন, জাতীয় যুব পরিষদের সভাপতি এস এম সামছুল আলম নিক্সন, লাইব্রেরিস উইদাউট বর্ডার্সের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ ইরফান শেখ, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসিরউদ্দিন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ সিরাজ মিয়া, নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামজীর আহমেদ, এডভোকেট ড. কাজী জাহেদ ইকবাল, সাবেক সচিব গোলাম শফিক, রাজনীতিবিদ মো. আব্দুল কাদের ও মুশফিক উস সালেহীন, অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলহাজ্ব মো. নজরুল হক ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহবুবুল আলম চৌধুরী, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ও কলামিস্ট ড. রাহাত শিকদার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক নাজিফা জান্নাত, সম্প্রীতি যাত্রার সংগঠক শামীম আরা নীপা, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক শর্মি হোসেন, নৌযান সেইফ ওয়াটার ইনিশিয়েটিভের সভাপতি মিজানুর রহমান খোকন, উন্নয়নকর্মী সাজিদ মাহমুদ, আদিবাসী ভাষা এক্টিভিস্ট সমর এম সরেন, শিক্ষক ও আদিবাসী সংগঠক সুমন অগাস্টিন সরেন, গবেষক ও লেখক আরিফ বিল্লাহ, কবি ও লেখক সাদিকা রুমন, চিত্রশিল্পী ও উন্নয়নকর্মী আব্দুল্লাহ সেরু, কমিউনিকেশন প্রফেশনাল মারজানা সাফাত, লেখক ও সংগঠক নাহিদ হাসান, উন্নয়নকর্মী ও এক্টিভিস্ট মুশফিকুর রহমান, সম্পাদক ও অনুবাদক মোস্তাকিম বিল্লাহ মাসুম, ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশ মুভমেন্টের সভাপতি ম আ কাশেম মাসুদ, স্থপতি সুপ্রভা জুঁই, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নেটওয়ার্কের সংগঠক নাজমুল আহমেদ, সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি মি. বার্নাবাস টুডু, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মোস্তফা রিজওয়ান রাহাত, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদ জামাল কাদেরী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ মহিউদ্দিন, এক্টিভিস্ট আবু বকর মুহাম্মদ মুঈন উদ্দীন, উইমেন ফর গুড গভর্ন্যান্সের নির্বাহী পরিচালক রুবী আমাতুল্লা, সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রুশাদ ফরিদী, অপরাজেয় বাংলার সদস্য সচিব এম এ এন শাহীন, বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ইউসুফ আম্মার, জাতীয় ছাত্রমঞ্চের আহ্বায়ক স্মৃতি পাটোয়ারী, রাষ্ট্র সংস্কার ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি লামিয়া ইসলাম, রাষ্ট্র সংস্কার শ্রমিক আন্দোলনের সভাপতি মিন্টু মিয়া, রাষ্ট্র সংস্কার কৃষক আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম জুয়েল, পরিবেশ বিষয়ক সংগঠক ইবনুল সাঈদ রানা, সম্মিলিত শ্রমিক পরিষদের সাবেক সমন্বয়ক মোহাম্মদ সোহেল, আর্টিস্ট ও লেখক দেবাশিস চক্রবর্তী, কুরআন পাঠ আন্দোলনের আহ্বায়ক আবু সাঈদ খান, রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য চারু হক, মানবাধিকার কর্মী খান শোয়েব আমান, কবি ও যুব সংগঠক সানাউল্লাহ সাগর, পরিবেশকর্মী সাইফুল আলম শোভন, সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব মো. জাফরুল ইসলাম প্রধান, এক্টিভিস্ট নাজমুল হাসান, কবি উম্মে হাবীবা মায়া, আলোকচিত্রী ও এক্টিভিস্ট মনজুর হোসেন, এক্টিভিস্ট মাহাতাব উদ্দিন আহাম্মাদ, নারী সংগঠক মনোয়ারা রহমান ও রাশিদা বেগম, আইনের ইতিহাস গবেষক রাশেদ রাহম, বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহবায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ, কবি ও অধ্যাপক চিনু কবির, রাষ্ট্র সংস্কার সাংস্কৃতিক আন্দোলনের আহ্বায়ক আবুল হোসেন অলি, অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল উদ্দিন আহম্মেদ, এডভোকেট আব্দুর রশিদ মিয়া, জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) সদস্যসচিব এডভোকেট আব্দুল আলিম, প্রধান সংগঠক আহছান উল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম ও ইমরান হোসেন রাহাত এবং নির্বাহী পর্ষদ সদস্য মানিষা আক্তার শ্রুতি, নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) সেন্ট্রাল কাউন্সিল সদস্য বাকী বিল্লাহ, অনিক রায় ও শিমুল খান, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নেটওয়ার্কের সংগঠক অনুপম সৈকত শান্ত ও রাহাত মুস্তাফিজ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন, আইনজীবী রোকন রকি, রাজনৈতিক এক্টিভিস্ট রিয়াজ খান, গবেষক ও নাগরিক অধিকার কর্মী সাধনা মহল, প্রযুক্তিবিদ সাদিক আলম ও নিলয় রশীদ, পেশাজীবী সাইদুল খন্দকার সবুজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মাদ মাহিন, প্রবাসী সংগঠক রাফায়েত হৃদয় এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া।

এমএইচ/এআরএম