০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর, ডেমরা ও বংশাল এলাকায় পৃথক ঘটনায় গৃহিণীসহ তিনজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিভিন্ন সময়ে এসব ঘটনা ঘটে।
পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার (২ অক্টোবর) ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতরা হলেন—কামরাঙ্গীরচরের স্বপ্না বেগম (৩৮), ডেমরার পপি (৩৫) এবং বংশালের হাশেম (৪৮)। পুলিশ ও পরিবারের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, তিনটি ঘটনাই আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কামরাঙ্গীরচরে গৃহিণীর মরদেহ উদ্ধার
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কামরাঙ্গীরচরের পশ্চিম রসুলপুর ঝাউলাহাটি চৌরাস্তা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে স্বপ্না বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের স্বামী খাজা জানান, বিয়ের পর থেকেই তার স্ত্রী শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। ঘটনার সময় সন্তানরা বাইরে ছিল। পরে বাড়ির ম্যানেজার তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। স্বপ্না ও খাজার সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
কামরাঙ্গীরচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ডেমরায় গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে ডেমরার হাজী বাদশা মিয়া রোডের ‘আমার ভুবন’ ভবনের ১১ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে পপি (৩৫) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে গোসলের কথা বলে বাথরুমে প্রবেশের পর দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পাওয়ায় স্বজনদের সন্দেহ হয়। পরে দরজা খুলে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।
পপি চার সন্তানের জননী। তিনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার নন্দলালপুর গ্রামের মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে।
ডেমরা থানার এসআই মাহবুর রহমান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
বংশালে মানসিক অসুস্থ ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুরান ঢাকার বংশাল থানাধীন নাজিম উদ্দিন রোড এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের চতুর্থ তলায় হাশেম (৪৮) নামের এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের ছেলে হাসিব জানান, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। রাতে স্বজনরা তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
পরে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তিনটি ঘটনারই পৃথকভাবে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এমএমআর/এআরএম