নিজস্ব প্রতিবেদক
০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম
রাজধানীর ফুটপাত জনগণের নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। উচ্ছেদ অভিযানের পর কেউ আবার ফুটপাত দখল করলে আরও কঠোরভাবে অভিযান পরিচালনা করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মিরপুর-১০ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন শফিকুল ইসলাম খান। এর আগে গতকালের উচ্ছেদ অভিযানে সংঘর্ষে আহত সাংবাদিক সিফাতের পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাসায় গিয়ে তার স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন প্রশাসক।
পরে মিরপুর-১০ উচ্ছেদ এলাকা পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে প্রশাসকের পদক্ষেপকে স্বাগত জানান। তারা অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি স্থায়ীভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার অনুরোধ করেন।
প্রশাসক বলেন, নগরবাসীর স্বার্থে এবং নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান চলমান থাকবে। উচ্ছেদ অভিযান ও হকারদের বিষয়ে কারও যৌক্তিক পরামর্শ থাকলে তা গ্রহণ করা হবে।
ফুটপাত পুনরায় দখলের বিষয়ে তিনি বলেন, জনগণের চলাচলের পথ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। উচ্ছেদের পর কেউ আবার সেখানে বসলে আরও শক্ত অবস্থানে থেকে অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
আরও পড়ুন:
উচ্ছেদের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের দখলে ঢামেকের ফুটপাত
হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রশাসক বলেন, হকারদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের সম্মতি নিয়েই বিকল্প স্থানে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এ জন্য ২০৪টি নিবন্ধন কার্ডের মাধ্যমে তাদের আয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা নির্ধারিত স্থান ছেড়ে আবার আগের জায়গায় ব্যবসা করতে চাচ্ছেন। হকাররা ব্যবসা করবেন, তবে ফুটপাত দখল করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে নয়। তাদের জন্য নির্ধারিত জায়গাতেই ব্যবসা করতে হবে।
সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আহত হওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে প্রশাসক বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে সাংবাদিকরা বাধা উপেক্ষা করে সংবাদ সংগ্রহ করছেন। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা দুঃখজনক। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন সব সময় সাংবাদিকদের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
তিনি আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশনের আইন ও নিয়ম অনুযায়ী নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করা এবং জনদুর্ভোগ কমাতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন যেকোনো এলাকায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নাগরিকদের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করা হবে।
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর সেখানে গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রশাসক। তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থ ও নৈতিকতার দিক বিবেচনা করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সেখানে গাছ লাগানো হবে। এর মাধ্যমে রাজধানীকে আরও সবুজ ও পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
এএইচ/এসআই