নিজস্ব প্রতিবেদক
০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম
কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীদল অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ ধরনের অপতৎপরতা মোকাবিলায় বিএনপি সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করবে এবং আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে ফেনীর পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী-কহুয়া সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সরকারপ্রধান।
বিরোধীদলকে বিএনপি নিয়ে সমালোচনা না করে নিজেদের দলের অনিয়ম ও অপকর্ম বন্ধে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘যারা একাত্তরে মানুষকে নির্যাতন করেছে, তারাই আবার নারী নির্যাতন, এমনকি হত্যার মতো অপকর্মে জড়াচ্ছে। সরকারের সব কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতেই তারা অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে। গুপ্ত দলটি সবসময় জনগণের স্বার্থবিরোধী কাজ করছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অস্থিতিশীলতার কারণে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি ব্যাহত হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষ। তাই সরকারের কার্যক্রম বন্ধ করতে যারা বাধা সৃষ্টি করবে, জনগণই তাদের জবাব দেবে।’
সরকারপ্রধান বলেন, ‘বিএনপি রাজনীতি করে মানুষের জন্য। দেশের কল্যাণের জন্য। বিএনপির খাল খনন, নদী ড্রেজিং ও কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড সবকিছুই মানুষের কল্যাণের জন্য।’
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘বিএনপির খাল, নদী খনন সফল হলে এ এলাকার সাড়ে ৪ লাখ মানুষ উপকৃত হবে। ফলে ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হবে। এতে ১ লাখ মেট্রিক টন ফসল বেশি উৎপাদন হবে।’
এর আগে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে সড়কপথে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। ফেনীতে নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে তার।
তারেক রহমানের নানা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের গ্রামের বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরে। ফুলগাজীসহ তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-১ আসনের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের স্মৃতি রয়েছে। এ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী দুপুরে পরশুরাম উপজেলার উপকণ্ঠে এবং খোয়াইঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) গত ১৬ জুন ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটির বাস্তবায়নের অনুমোদন দেয়। প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে।
পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীতে বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এরপর তিনি ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিদর্শন করবেন। সেখানে তিনি ছাদভিত্তিক (রুফটপ) সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধন করবেন।
প্রধানমন্ত্রী বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সেখানে তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান করবেন।
ফুলগাজীতে মোট ৫১০ জন ফ্যামিলি কার্ড এবং পুরো জেলাজুড়ে ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক কার্ড পাবেন। এছাড়া ফুলগাজীর ২৩৮ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতকে সম্মানী দেওয়া হবে।
এমআর