Dhaka Mail Logo

জাতীয়

ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে ঢাকা ওয়াসা বদ্ধপরিকর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নাগরিকদের জন্য ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ঢাকা ওয়াসা বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) এ কে এম ফজলুল হক।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধনী ২০২৬)-এর প্রাসঙ্গিক বিধান যথাযথভাবে কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি ঢাকা ওয়াসার সব কার্যালয়ে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ওয়াসা ভবনে ঢাকা ওয়াসা ও ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর (ডর্‌প)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ঢাকা ওয়াসার সব কার্যালয়ে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ শীর্ষক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডর্‌পের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী জেবা আফরোজা।

জেবা আফরোজা বলেন, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করে। কর্মক্ষেত্র, জনসমাগমস্থল ও গণপরিবহনে বিপুলসংখ্যক মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন। গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস) ২০১৭ অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। একই জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক কর্মক্ষেত্রসহ জনসমাগমস্থল ও গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন।

তিনি জানান, কর্মক্ষেত্রের অভ্যন্তরীণ এলাকায় ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ, গণপরিবহনে ৪৪ শতাংশ এবং রেস্তোরাঁয় প্রায় ৪৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে এসেছেন। এমনকি ২০২৩ সালে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে বিশ্বে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দ্য ল্যানসেট-এর এক গবেষণায় উঠে এসেছে। তাই প্রত্যক্ষ ধূমপানের মতো পরোক্ষ ধূমপানও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এর প্রভাব থেকে কর্মক্ষেত্র ও জনসমাগমস্থলকে সুরক্ষিত রাখা জরুরি।

জেবা আফরোজা আরও বলেন, তামাক ব্যবহারজনিত রোগ ও অকালমৃত্যু দেশের জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে প্রায় ২ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে। তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা।

তামাক নিয়ন্ত্রণকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে ঢাকা ওয়াসার এ উদ্যোগ দেশের অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা ওয়াসার সচিব মুহাম্মদ আবদুল হাই মিল্টন। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বাণীতে তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু-কিশোর ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সরকারের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জনসমাগমস্থল ও গণপরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ সরকারের এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নেরই অংশ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত এবং স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে জনসাধারণকে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অবহিত করা, তামাক নিয়ন্ত্রণে ঢাকা ওয়াসার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আইন ও বিধিবিধানের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

সভায় ডর্‌পের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঢাকা ওয়াসার সব কার্যালয়ে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় গণবিজ্ঞপ্তি, সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড ও অন্যান্য উপকরণ স্থাপনে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কর্মীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত, নিরাপদ ও তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

সভায় ঢাকা ওয়াসার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও ডর্‌পের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিইউ/এআর