জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
সেপ্টেম্বর মাসে কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও সার্বিক পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকটি গুরুতর ও উদ্বেগজনক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক সহিংসতা, কারা হেফাজতে মৃত্যু, অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার, সাইবার/ডিজিটাল আইনে মামলা ও গ্রেফতার এবং সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও নিজস্ব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মানবাধিকার পরিস্থিতির তথ্য পর্যালোচনায় এমনটাই জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালের সই করা সেপ্টেম্বর মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতির প্রতিবেদন গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও প্রায় প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রেই স্থানীয় হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারদের মাধ্যমে ভেরিফাই করে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।
এমএসএফের প্রতিবেদন বলছে, সেপ্টেম্বরে মব সহিংসতায় অন্তত ৬৫টি ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৭৪ জন আহত হয়েছেন। আগস্টের তুলনায় নিহতের সংখ্যা কমলেও মবের মাধ্যমে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা এখনও উদ্বেগজনক। চুরি, ডাকাতি, জমি ও অর্থনৈতিক বিরোধ, বাকবিতণ্ডা এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনার উল্লেখযোগ্য অংশ সংঘটিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনৈতিক সহিংসতায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৩৮৪ জন আহত এবং অন্তত ১ জন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা হামলায় আরও ৭ জন নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল রাজনৈতিক পরিবেশের অস্থিরতা এবং নাগরিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ তৈরি করছে।
এমএসএফ বলছে, কারা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। সেপ্টেম্বরে কারা হেফাজতে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যেখানে আগস্টে এ সংখ্যা ছিল ৯ জন। একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে একজন নারী মারা গেছেন। হেফাজতে মৃত্যুর এসব ঘটনা বন্দিদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা, মানবিক আচরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক হামলা কিছুটা কমলেও আইনি হয়রানি বেড়েছে বলেও সংস্থাটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ২৮ জন সাংবাদিক হামলা বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং ৯ জন সাংবাদিক আইনি হয়রানির মুখোমুখি হয়েছেন। একই সঙ্গে ডিজিটাল/সাইবার আইনে মামলা ৩ থেকে বেড়ে ৮টি এবং গ্রেফতার ৩ থেকে বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এসব প্রবণতা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধারের ঘটনাও উদ্বেগজনক বলেও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ৭১ টি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৫ জন পুরুষ, ১৫ জন নারী এবং ১ জনের বয়স ও লিঙ্গ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। অধিকাংশ লাশ নদী, সড়ক, রেললাইন, ফসলি জমি বা পরিত্যক্ত স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে; কয়েকটি লাশ গলা কাটা, বস্তাবন্দি, হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় পরিচয় শনাক্তকরণ এবং মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে কার্যকর তদন্ত জরুরি।
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও উদ্বেগ রয়েছে। সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১০টি প্রতিমা ভাঙচুর এবং একটি জাতিগত নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তা ছাড়া কুষ্টিয়ার মহাশ্বসানে গরু জবাই করে পিকনিক এবং চিতা ও সমাধির উপর জুতা পায়ে ছবি তোলার ঘটনা জনমনে ঘৃণার সৃষ্টি করেছে। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং তাদের উপাসনালয় ও ধর্মীয় সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া সীমান্ত পরিস্থিতিতেও প্রাণহানি ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন; পাশাপাশি আটক এবং পুশ-ইনের চেষ্টার ঘটনাও ঘটেছে। মিয়ানমার সীমান্তেও আরাকান আর্মির গুলিতে একজন বাংলাদেশি আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এমএসএফ পর্যবেক্ষণ, সার্বিকভাবে সেপ্টেম্বরের পরিস্থিতি দেখায় যে সহিংসতার কিছু সূচকে উন্নতি হলেও মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে নতুন ও গভীরতর কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতা, হেফাজতে মৃত্যু, মবের মাধ্যমে বিচার, অজ্ঞাতনামা লাশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর চাপ, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং সীমান্তে প্রাণহানি- এসব বিষয়ে রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা ও কার্যকর আইনগত সুরক্ষা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে আইনের শাসন, নিরপেক্ষ তদন্ত, ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা, জবাবদিহিতা এবং নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন বলছে, বিগত আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতিতে উন্নতি ও অবনতির পাশাপাশি বেশ কিছু নতুন উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রাজনৈতিক সহিংসতা, কারা হেফাজতে মৃত্যু, সাইবার/ডিজিটাল আইনে মামলা ও গ্রেফতার এবং অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধারের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে মব ভায়োলেন্স ও সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক হামলার ঘটনা কিছুটা কমলেও, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনি হয়রানি এবং সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা বেড়েছে।
মব সহিংসতায় কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। আগস্টে মব সহিংসতায় ৩৫ জন নিহত ও ৭৪ জন আহত হলেও সেপ্টেম্বরে নিহতের সংখ্যা কমে ২৩ এবং আহতের সংখ্যা ৭৪ একই রয়েছে। অর্থাৎ, নিহতের সংখ্যা কমে এসেছে। তবে চুরি, জমি বিরোধ, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ধর্ষণ, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এসব সহিংসতা এখনো জননিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক সহিংসতা সেপ্টেম্বরে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। আগস্টে রাজনৈতিক সংঘর্ষে ৯৫ জন আহত হলেও সেপ্টেম্বরে এ সংখ্যা বেড়ে ৩৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে— অর্থাৎ তিন গুণেরও বেশি। বিএনপি, এনসিপি, জামায়াত, আওয়ামী লীগ এবং আন্তঃদলীয় সংঘর্ষ-এ সহিংসতার প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। রাজনৈতিক সহিংসতায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিহতের সংখ্যা ৭ থেকে কমে ১ জন হলেও অজ্ঞাত হামলায় নিহতের ঘটনা ৭ থেকে ৭ এবং আহতের ঘটনা ২১ থেকে ৩-এ নেমেছে। তবে রাজনৈতিক সংঘর্ষে বিপুলসংখ্যক আহতের ঘটনা নির্বাচনের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ তৈরি করে।
২০২৪ সালের সরকার পতন-পরবর্তী মামলায় আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে মামলার আসামির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে- ২৪০ থেকে ১৯ জনে। তবে গ্রেফতার ১২৬ থেকে কমে ৯৪ জন হলেও, এ ধরনের মামলায় রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে হয়রানি বা বিচারপ্রক্রিয়ার অপব্যবহার হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। একইভাবে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতার ৪ থেকে ১ জনে নেমেছে।
কারা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা সবচেয়ে উদ্বেগজনক সূচকগুলোর একটি। আগস্টে ৯ জনের মৃত্যু হলেও সেপ্টেম্বরে এ সংখ্যা বেড়ে ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে—প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি। নিহতদের সবাই হাজতি বা কয়েদি এবং সবাই পুরুষ। কারাগারে অতিরিক্ত ভিড়, চিকিৎসাসেবা, নিরাপত্তা, নির্যাতন, অসুস্থ বন্দিদের যথাযথ চিকিৎসা এবং সামগ্রিক কারা ব্যবস্থাপনা নিয়ে এই বৃদ্ধি গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুও অব্যাহত রয়েছে। আগস্টে ২ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের ঘটনায় পুলিশ হেফাজতে একজন নারী আসামির মৃত্যু বিশেষভাবে উদ্বেগজনক এবং ঘটনাটির স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
সাংবাদিকদের পরিস্থিতিতে দ্বিমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সাংবাদিক নির্যাতন ও হামলার ঘটনা আগস্টের ৩৬ থেকে সেপ্টেম্বরে ২৮-এ কমেছে। কিন্তু সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনি হয়রানি ৪ থেকে বেড়ে ৯টিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ সরাসরি শারীরিক হামলা কিছুটা কমলেও মামলা ও আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টির প্রবণতা বেড়েছে। স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত।
ডিজিটাল/সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত মামলায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে। আগস্টে ৩টি মামলা হলেও সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে ৮টিতে দাঁড়িয়েছে। গ্রেফতার ৩ থেকে বেড়ে ৮ এবং আসামির সংখ্যা ৪ থেকে বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। অনলাইন মন্তব্য, ধর্মীয় অনুভূতি, মানহানি ও রাজনৈতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এসব মামলা হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের সময় অপরাধ ও মতপ্রকাশের অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি।
অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধারের ঘটনা বেড়েছে। আগস্টে ৫৬টি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার হলেও সেপ্টেম্বরে এ সংখ্যা বেড়ে ৭১টিতে দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে নাম-পরিচয় শনাক্ত হওয়া লাশ উদ্ধারের সংখ্যা ৩৩ থেকে কমে ১৪ হয়েছে। অজ্ঞাতনামা লাশের এই বৃদ্ধি নিখোঁজ ব্যক্তি, অপরাধ, হত্যাকাণ্ড এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীরতর অনুসন্ধানের দাবি রাখে।
সংখ্যালঘুদের ওপর হামলায় উদ্বেগজনক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা আগস্টের ১টি থেকে সেপ্টেম্বরে ১০টিতে বেড়েছে। ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, নওগাঁ, পাবনা, সিলেট, শরীয়তপুর, বগুড়া ও পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তাছাড়া কুষ্টিয়ার মহাশ্বসানে গরু জবাই করে পিকনিক এবং চিতা ও সমাধির উপর জুতা পায়ে ছবি তোলার ঘটনা জনমনে ঘৃনার সৃষ্টি করেছে। সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের মোট ঘটনা ৫ থেকে ৫ থাকলেও ধর্মীয় উপাসনাস্থল ও প্রতিমায় হামলার বৃদ্ধি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।
সীমান্ত পরিস্থিতিতে মিশ্র চিত্র পাওয়া যায়। বিএসএফের গুলিতে নিহতের সংখ্যা আগস্টের ১ থেকে সেপ্টেম্বরে ৪ জনে বেড়েছে এবং একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে বিএসএফ কর্তৃক ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ৮ থেকে ৫ এবং পুশ-ইনের চেষ্টার ঘটনা ১০০ থেকে ১০৩ হয়েছে। ফলে সীমান্তে একদিকে প্রাণহানির উদ্বেগ বাড়লেও অন্যদিকে কিছু ক্ষেত্রে সীমান্তবর্তী চাপ কমেছে।
সবশেষে, বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার আগস্টের ৫,১৯৬ জন থেকে সেপ্টেম্বরে বেড়ে ৬,৫৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে— ১৩৬৯ জনের বৃদ্ধি, অর্থাৎ প্রায় ২৪ শতাংশ। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারদের অধিকাংশই মাদক-সংক্রান্ত মামলায় আটক হয়েছেন। এত বিপুলসংখ্যক গ্রেফতারের ক্ষেত্রে আটক ব্যক্তিদের আইনগত অধিকার, যথাযথ যাচাই, জামিনের সুযোগ এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নজরদারি করা প্রয়োজন।
এমএসএফ পর্যবেক্ষণ, সেপ্টেম্বর মাসে মানবাধিকার পরিস্থিতি সরলভাবে ‘উন্নত’ বা ‘অবনতিশীল’—কোনোটিই বলা যায় না; বরং পরিস্থিতি বহুমাত্রিক এবং উদ্বেগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করছে। মব ভায়োলেন্স মৃত্যু, সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক হামলা এবং অজ্ঞাত হামলায় রাজনৈতিক কর্মীদের আহত হওয়ার ঘটনা কমেছে। কিন্তু এর বিপরীতে রাজনৈতিক সংঘর্ষে আহত, কারা হেফাজতে মৃত্যু, সাইবার আইনে মামলা ও গ্রেফতার, অজ্ঞাতনামা লাশ এবং প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশেষ করে রাজনৈতিক সহিংসতা ও কারা হেফাজতে মৃত্যুর হার সেপ্টেম্বরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতার বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
এ ছাড়াও সার্বিকভাবে সেপ্টেম্বর মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতির প্রধান বার্তা হলো— প্রকাশ্য সহিংসতার কিছু সূচকে উন্নতি হলেও রাষ্ট্রীয় হেফাজত, রাজনৈতিক সহিংসতা, ডিজিটাল মতপ্রকাশ, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং অজ্ঞাতনামা লাশের মতো ক্ষেত্রে উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে। মানবাধিকার সুরক্ষায় শুধু অপরাধ নিয়ন্ত্রণ নয়, একই সঙ্গে জবাবদিহিতা, আইনের যথাযথ প্রয়োগ, বিচারিক সুরক্ষা এবং নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি।
গণমাধ্যমসূত্রে পাওয়া এমএসএফ’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে একই ধারাবাহিকতায় মব সন্ত্রাসে হতাহতের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েই চলেছে। চলতি সময়ে মবের ঘটনা কমে না আসায় জনমনে নিরাপত্তা বোধের বিষয়টি প্রশ্নাতীতভাবে ভাবিয়ে তুলেছে।
এ ছাড়াও নতুন করে ধর্ষণ এবং ধর্ষণচেষ্টার হার বেড়ে যাওয়ায় ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের ধরে মব করার প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে লক্ষণীয়ভাবে সমাজের মনস্তত্ত্বে এর প্রভাব পড়ছে ও জনমনে মব নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফ’র পরিসংখ্যান, অনুযায়ী সেপ্টেম্বর মাসে অন্তত ৬৫ টি মবের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ২৩ জন নিহত ও ৭৪ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছে।
মব ভায়োলেন্সে মোট ২৩ জন নিহতের মধ্যে ঢাকায় মব ভায়োলেন্সে ২ জন, বাগেরহাটে ১ জন, বরিশালে ১ জন, ভোলায় ১ জন, বগুড়ায় ১ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১ জন, চট্টগ্রামে ১ জন, কক্সবাজারে ২ জন, কুমিল্লায় ৩ জন, খুলনায় ২ জন, নেত্রকোণায় ১ জন, পাবনায় ১ জন, রাজশাহীতে ১ জন, শরীয়তপুরে ১ জন, ময়মনসিংহে ২ জন, গোপালগঞ্জে ১ জন এবং রাজবাড়িতে ১ জন নিহত হয়েছেন। মব সহিংসতায় হতাহতের ঘটনা চট্টগ্রামে তুলনামূলকভাবে বেশি।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে সারাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সরকারের পতন সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১ জন নেতা কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যা গত আগস্ট মাসে ছিল ৪ জন।
এ ছাড়াও সেপ্টেম্বর মাসে সারাদেশে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত ফৌজদারি অপরাধে ৮২৭২ জন গ্রেফতার হয়েছেন, যার মধ্যে কথিত কিশোর গ্যাং সন্দেহে ১৭০৭ জন রয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে সারাদেশে ২০২৪ এর সরকারের পতন পরবর্তী বিভিন্ন মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের মোট ৯৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা গত আগস্ট মাসে ছিল ১২৬ জন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় মোট ১ জন নিহত হয়, যিনি বিএনপির আন্ত কলহে দলটির কর্মী ফেনীতে মারা যান।
রাজনৈতিক সহিংসতায় সেপ্টেম্বরে মাসে মোট আহত ৩৮৪ জন। যাদের মধ্যে বিএনপির ৩৫৫ জন, জামায়াতের ২৫ জন এবং এনসিপির ৪ জন।
সেপ্টেম্বর ২০২৬ সময়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের হামলায় মোট ৭ জন নিহত হয়। এদের মধ্যে ৪ জন বিএনপির ও ৩ জন আওয়ামী লীগের। অজ্ঞাতনামা এই হামলাকারীরা কারা হতে পারে তা মিডিয়া ও ফ্যাক্ট-ফাইন্ডাররা এখনো বের করতে পারেনি।
এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহিত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর সময়কালে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে ১ জন নারী মারা যান, তিনি বরিশালের বাকেরগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হন। পরিবার অভিযোগ করেছে যে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়।
সেপ্টেম্বর সময়ে কারা হেফাজতে মোট ২৪ জন মৃত্যুবরণ করেন, যা আগস্ট মাসে ছিল ৯ জন। এদের মধ্যে ৩ জন আওয়ামী লীগ নেতা ও কর্মী। ২৪ জনের মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত ১০ জন (ঢাকায় ৪ জন, বগুড়া, দিনাজপুর, যশোর, মাগুড়া, পাবনা ও কিশোরগঞ্জে ১ জন করে) এবং হাজতি ১৪ জনের (ঢাকায় ১০ জন, এছাড়া চট্টগ্রাম, কিশোরগঞ্জ, শরীয়তপুর এবং সিলেট এ ১ জন করে)।
সংবাদপত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে মোট ২৮ জন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক নিপীড়নের/ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, আগস্টে এই সংখ্যা ছিলো ৩৬ জন।
এ ছাড়া, সেপ্টেম্বর মাসে আইনি হয়রানির শিকার হয়েছেন ৯ জন সাংবাদিক। এদের মধ্যে কালের কন্ঠের ২ জন, যুগান্তরের ১ জন, এসএ টিভির ৩ জন, কালবেলার ১ জন বাংলা অ্যাফেয়ার্সের ১ জন দেশ রুপান্তরের ২ জন এবং বাকিরা স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিকবৃন্দ। তাদের বেশিরভাগই সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন।
এরমধ্যে বিএনপি নেতা-কর্মী দ্বারা ৩ জন আহত হন এবং এনসিপি দ্বারা ২ জন আহত হন। দলীয় পরিচয়বিহীন স্থানীয় ব্যক্তিদের দ্বারা বাকিরা আহত হয়েছেন।
সেপ্টেম্বর মাসে আগের মাসের ধারাবাহিকতায় অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধারের ঘটনা বেড়েই চলেছে। অজ্ঞাতনামা লাশের পরিচয় উদ্ধারে অপারগতার কারণে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধারকৃত ৭১ অজ্ঞাতনামা লাশের মধ্যে ২ জন শিশু, ২ জন কিশোর, ১ জন কিশোরী, ১০ জন নারী ও ৫৫ জন পুরুষ এবং ১ জনের বয়স ও লিঙ্গ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। নাগরিক জীবনে নিরাপত্তাহীনতার বড় কারণ। অল্পসংখ্যক ঘটনা ছাড়া সব কয়টি লাশের পরিচয় অজ্ঞাতই থেকে যাচ্ছে। দাফনের জন্য দেওয়া হচ্ছে আঞ্জমান মফিদুল ইসলামকে।
এসব অজ্ঞাতনামা লাশের বেশির ভাগই নদী বা ডোবায় ভাসমান, মহাসড়ক বা সড়কের পাশে, সেতুর নিচে, রেল লাইনের পাশে, ফসলী জমিতে ও পরিত্যক্ত স্থানে পাওয়া যায়। অল্পসংখ্যক মৃতদেহ গলা কাটা, বস্তাবন্দি, হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
সেপ্টেম্বর মাসে উদ্ধারকৃত অজ্ঞাতনামা লাশের প্রায় ৮১ শতাংশ পুরুষ এবং ১৯ শতাংশ নারী। বয়সভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ৩১–৪০ বছর বয়সী ব্যক্তিদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি- ৩৭ জন, যা মোট লাশের অর্ধেকেরও বেশি। এর মধ্যে ৩০ জন পুরুষ ও ৭ জন নারী। এরপর ৪১–৫০ বছর বয়সী ১৬ জন, ২০–৩০ বছর বয়সী ৭ জন এবং ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে ৭ জন রয়েছেন। এছাড়া ১২–১৫ বছর বয়সী ৩ জন কিশোর-কিশোরীর লাশ উদ্ধার হয়েছে এবং একজনের বয়স ও লিঙ্গ শনাক্ত করা যায়নি।
এমএসএফ বলছে, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, উদ্ধারকৃত কয়েকটি লাশ গলা কাটা, বস্তাবন্দি, হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, পরিচয় এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
সংস্থাটি আরও বলছে, সামগ্রিকভাবে, ৭১টি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধারের ঘটনা জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে ৩১–৪০ বছর বয়সী পুরুষদের আধিক্য এবং কিছু লাশের সহিংস অবস্থায় উদ্ধারের বিষয়টি পৃথকভাবে তদন্ত ও নিবিড় মানবাধিকার পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে।
এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে ২ জন বাংলাদেশি নিহত ও ১ বাংলাদেশি আহত হন। এ ছাড়া ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় ২ বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় আরাকান আর্মির গুলিতে ১ জন বাংলাদেশি আহত হয়। ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ৫ বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করে বিএসএফ। অপরদিকে ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় ১০৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। যার ফলে সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকেরা উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের জীবনযাপন করছেন।
এমএসএফ প্রতিবেদন বলছে, ৫ সেপ্টেম্বর ফেনীর ছাগলনাইয়া সীমান্তে জমিতে চাষাবাদ করার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফের ছোড়া গুলিতে মোশাররফ (৪৫) নামের এক ব্যক্তি আহত হন। জমিতে কাজ করার সময় হঠাৎ বিএসএফের ছোড়া গুলি এসে তার পিঠের বাম পাশে লাগে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ২ নম্বর ওয়ার্ডের ক্যাজুয়ালটি বিভাগে ভর্তি করে।
১৩ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় সীমান্তের ওপারে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আহত আসাদুল (৩৮) হক এক বাংলাদেশি যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ১৩ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দেরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আসাদুল হকের (৩৫) মৃত্যুর পর চিকিৎসাধীন মোস্তাকিম (৩৮) নামে আরও এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় শ্রী উদা চন্দ্র (৩৫) নামে আরেক বাংলাদেশি যুবক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বিএসএফের হাতে আটক রয়েছেন। ১২ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টার দিকে উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের চান্দেরহাট বিওপি এলাকার সীমান্ত পিলার ৩৩৩/এমপির কাছাকাছি (ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ বসুদেবপুর সীমান্ত) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
১ সেপ্টেম্বর সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার মিনাটিলা সীমান্ত ফাঁড়ির (বিওপি) ওয়াচ টাওয়ার থেকে জামিল হাসান শিষ (২৫) নামের এক বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ১৯ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার পাশে শাকিল (১৪) নামে এক কিশোরের লাশ পড়ে থাকার খবর পাওয়া যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের আখাউড়া-ত্রিপুরা অংশের ‘২০২২-৯এস’ সীমান্ত পিলারের কাছে কাঁটাতারের বেড়ার পাশে কিশোরের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে বিষয়টি বিএসএফের নজরে আসে।
এদিকে, ৫ সেপ্টেম্বর টেকনাফে নাফ নদীর মিয়ানমার জলসীমায় মাছ শিকারের সময় আরাকান আর্মির ছোড়া গুলিতে আহত হন ইদ্রিস নামে এক বাংলাদেশি জেলে। তিনি টেকনাফ পৌরসভার উত্তর জালিয়াপাড়ার বাসিন্দা। তার ডান পায়ের হাঁটুতে গুলি লেগেছে। খবর পেয়ে স্থানীয় জেলেরা তাকে উদ্ধার করে টেকনাফ হাসপাতালে নিয়ে যান।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে প্রতিমা ভাঙচুর ১০ টি (ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, নওগাঁ, পাবনা, সিলেট, শরীয়তপুর, বগূড়া, পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া)। জাতিগত নির্যাতন ১টি ঘটনা ঘটেছে খাগড়াছড়িতে। মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি ও উসকানিমূলক বক্তব্য সংক্রান্ত অভিযোগে ঘটনায় এ হামলাগুলো ঘটেছে।
এমএসএফ বলছে, সেপ্টেম্বরে মানবাধিকার পরিস্থিতির চিত্র একদিকে কিছু ক্ষেত্রে উন্নতির ইঙ্গিত দিলেও সামগ্রিকভাবে নতুন ও গুরুতর কিছু উদ্বেগ সামনে এসেছে। মব সহিংসতা ও সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক হামলা কিছুটা কমলেও রাজনৈতিক সহিংসতায় আহতের সংখ্যা, কারা হেফাজতে মৃত্যু, অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার, সাইবার আইনে মামলা-গ্রেফতার এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপাসনাস্থলে হামলার মতো ঘটনা বেড়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক সংঘাতের বিস্তার, হেফাজতে মৃত্যুর বৃদ্ধি এবং অজ্ঞাতনামা লাশের উচ্চ সংখ্যা জননিরাপত্তা, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের কার্যকর সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে। একই সঙ্গে সীমান্তে প্রাণহানি, সাংবাদিকদের আইনি হয়রানি এবং মবের মাধ্যমে বিচার-বহির্ভূত শাস্তির প্রবণতাও অব্যাহত রয়েছে।
এমএসএফ আরও বলছে, এই পরিস্থিতিতে আইনের যথাযথ প্রয়োগ, নিরপেক্ষ তদন্ত, হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা এবং মব-সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। মানবাধিকার পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকদের মধ্যেও আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।
এএম